চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরের বি ব্লকের ২ নম্বর রোডের ১৭ নম্বর লেইনসংলগ্ন এলাকায় সড়ক উন্নয়নকাজের জন্য রাস্তার দুই পাশের প্রায় ৬০টি বহু বছরের পুরোনো গাছ কাটার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।
এ উদ্যোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশসচেতন ব্যক্তিরা। তাঁদের দাবি, গাছ অক্ষত রেখে পরিকল্পিতভাবে সড়ক উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করা হোক।
স্থানীয় বাসিন্দা, নির্মাতা ও সাংবাদিক মুক্তি মাহমুদ গাছগুলো রক্ষায় উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার জাহানের সঙ্গে দেখা করে গাছ না কেটে উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়ে একটি আবেদন জমা দেন। তবে ওই আবেদনের বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ বা ইতিবাচক সাড়া পাননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
মুক্তি মাহমুদের অভিযোগ, পরে চসিকের উপসহকারী প্রকৌশলী নোমান তাসলিম সরেজমিনে গিয়ে গাছ কাটার নির্দেশ দেন। এরই মধ্যে কয়েকটি বহু বছরের পুরোনো গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন
গাছগুলো রক্ষায় আইনি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে মুক্তি মাহমুদ পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়েও লিখিত আবেদন করেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয় জানিয়েছে, গাছ কাটার বিষয়টি ‘বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)’ এবং ‘পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩’-এর সরাসরি আওতাভুক্ত নয়। এ কারণে আবেদনটি প্রয়োজনীয় অবগতি ও পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ, নন্দনকানন কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক সোনিয়া সুলতানার স্বাক্ষরিত দাপ্তরিক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গাছ রক্ষায় পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের দাবি
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশসচেতন নাগরিকদের মতে, চট্টগ্রাম নগরের তীব্র গরম মোকাবিলা, ছায়া নিশ্চিত করা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বহু বছরের পুরোনো গাছগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাঁদের আশঙ্কা, এসব গাছ কেটে ফেলা হলে এলাকার পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তাঁরা সড়ক উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার না করলেও গাছ কাটাকে একমাত্র সমাধান হিসেবে বিবেচনা না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, গাছগুলোর অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে বিকল্প নকশা প্রণয়ন এবং পরিবেশের ক্ষতি কমিয়ে উন্নয়নকাজ করা হোক।
এ অবস্থায় গাছ কাটা বন্ধ রেখে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে সড়ক উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আপনার মতামত লিখুন :