২০০ কারখানা ছুটি ঘোষণা, আশুলিয়ায় পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে আহত ১৫০


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২, ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ন

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের পঞ্চম দিনেও উত্তপ্ত সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল। সোমবার সকাল থেকে শতাধিক কারখানার শ্রমিক রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন।
এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে দেড় শতাধিক শ্রমিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন পুলিশের কয়েকজন সদস্যও।

আন্দোলনের মধ্যে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় একটি পোশাক কারখানার কাভার্ডভ্যানে আগুন দেওয়া হয়েছে। এদিকে পরিস্থিতি বিবেচনায় শিল্পাঞ্চলের দুই শতাধিক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। গত কয়েক দিনের আন্দোলনে সাভার ও আশুলিয়ায় মোট ২৩০টি পোশাক কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নরসিংহপুরের নিউএজ কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরতি শেষে কারখানা থেকে বেরিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে সকাল ১০টার পর আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে শ্রমিকেরা প্রথমে অনন্ত গ্রুপের কারখানা এবং পরে হা-মীম গ্রুপের কারখানার সামনে জড়ো হন। বিভিন্ন দাবিতে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

সংঘর্ষের মধ্যে বেলা ১২টার দিকে নরসিংহপুরের নদী ফিলিং স্টেশনের সামনে একটি পোশাক কারখানার কাভার্ডভ্যানে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর সড়কের পাশের অধিকাংশ চালু কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে শিল্প পুলিশ-১-এর এএসপি (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) শোয়েব আহমেদ সামান্য আহত হয়েছেন। তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। তাঁদের বেশ কয়েকজন সদস্যও আহত হয়েছেন।

দুপুর দেড়টা পর্যন্ত শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মুখোমুখি অবস্থানে ছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম। তিনি যুগান্তরকে বলেন, সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে বাইপাইল এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার দুজন শ্রমিক নাকি বহিরাগত, তা এখনো যাচাই করা হয়নি।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাভারের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু। শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কারণে আরিচা মহাসড়কে সৃষ্ট যানজট পরিদর্শনে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, পতিত সরকারের দোসররা সাভার ও আশুলিয়ার পোশাকশিল্পকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। বহিরাগত ব্যক্তিরা শ্রমিকদের কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে নাশকতা সৃষ্টি করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়েছে, বহিরাগতরা শ্রমিকদের কারখানা ছেড়ে মহাসড়কে আসতে বাধ্য করছে। এতে শান্তিপ্রিয় শ্রমিকেরাও কারখানা থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন বলে দাবি পুলিশের।