ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৬, ২০২৬, ৯:২৯ অপরাহ্ন

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বারবার ষড়যন্ত্র হয়েছে। গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের কবলে পড়েছে দেশ।

তবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আবারও গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে হবে।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবে অংশ নেওয়া বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক জনগণের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি ঐতিহাসিক এ দিনকে জাতীয় জীবনের অবিস্মরণীয় ঘটনা এবং দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, তৎকালীন তাবেদারি অপশাসন, দুর্নীতি, নৈরাজ্য ও আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্রের কঠিন সময়ে সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ফিরে পায়। নস্যাৎ হয় বিভিন্ন ষড়যন্ত্র। এ সময় স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনে তাঁর ওপর রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় সংকট উত্তরণের দায়িত্ব অর্পিত হয়। জাতির সংকটময় মুহূর্তে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, সিপাহি ও জনতার সংহতি ছিল স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত এক অভূতপূর্ব জাগরণ। একই চেতনার পুনর্জাগরণ ঘটে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে। ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যসহ সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। একই সঙ্গে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থেকেও রক্ষা করা সম্ভব হয় বলে বাণীতে উল্লেখ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ধারাবাহিকতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বাক্‌স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন তিনি। নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে দেশকে উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। পাশাপাশি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা ও সর্বস্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করেন।

বাণীর শেষাংশে রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় সমস্যার সমাধানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদকে করতে হবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ৭ নভেম্বরের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা ও গণতন্ত্রচর্চাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।