৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার প্রকল্প: মোংলা বন্দরে দুটি নতুন কন্টেইনার জেটির কাজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৪, ২০২৬, ৮:৫৯ অপরাহ্ন

মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বাড়াতে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি নতুন কন্টেইনার জেটি, ইয়ার্ড ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণকাজের উদ্বোধন করতে মোংলা যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তাঁর এই সফরের কথা রয়েছে।

এর আগে গত ২২ অক্টোবর মোংলা বন্দরের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করতে বন্দরটি পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা জানান, বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় দুটি নতুন কন্টেইনার জেটি ও ইয়ার্ড নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে এ প্রকল্পের উন্নয়ন চুক্তি স্বাক্ষর করেন তিনি। এর ধারাবাহিকতায় গত ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
প্রকল্পে থাকবে ৪৯টি আধুনিক যন্ত্রপাতি
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জানান, ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার এ প্রকল্পে দুটি নতুন কন্টেইনার জেটি ও ইয়ার্ড নির্মাণের পাশাপাশি পণ্য ওঠানামা ও পরিবহনের জন্য ৪৯টি আধুনিক যন্ত্রপাতি যুক্ত করা হবে। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দেবে প্রায় ৪৭৫ কোটি টাকা। বাকি প্রায় ৩ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা চীনের অর্থায়নে জোগান দেওয়া হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। নতুন ইয়ার্ডে ঘণ্টায় ৩০টির বেশি কন্টেইনার ওঠানামা করা সম্ভব হবে। বন্দরের বার্ষিক কন্টেইনার পরিবহন সক্ষমতা প্রায় ৪ লাখ টিইইউতে উন্নীত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

রেল যোগাযোগ চালুর উদ্যোগ
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, নতুন জেটি নির্মাণকাজের উদ্বোধনের পাশাপাশি ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের মধ্যে রেলওয়ে-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে।

চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরে কন্টেইনার পরিবহনে রেলসেবা চালুর পথ তৈরি হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানের অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার ডিপো (আইসিডি) থেকে রেলপথে পণ্য বন্দরে আনা সম্ভব হবে। এতে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে আরও দাবি
এদিকে, মোংলা বন্দর বার্থ শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জুলফিকার আলী বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, বন্দরের চ্যানেলের নাব্যতা বাড়াতে পরিকল্পিত ড্রেজিং ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, সড়ক ও রেল যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, ফয়লা বিমানবন্দর চালু এবং বন্দরের আকরাম পয়েন্টে দ্রুত এলএনজি স্টেশন নির্মাণ প্রয়োজন। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বন্দর ব্যবহারকারীরা আরও বেশি উপকৃত হবেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নতুন জেটি নির্মাণের পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থা ও নাব্যতা সমস্যার সমাধান করা গেলে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে মোংলা বন্দরের ভূমিকা আরও বাড়বে।