গুলশানে ছাত্রলীগ পরিচয়ে চাঁদাবাজি করছে কারা?


দৈনিক বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৯, ২০২৩, ৯:১৮ অপরাহ্ন

:: নিজস্ব প্রতিনিধি ::
শোকাবহ আগস্ট মাসকে কেন্দ্র করে রাজধানীর গুলশান এলাকায় ছাত্রলীগের পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন যাবত চাঁদাবাজি করে আসছে মোস্তফা হোসেন হেলাল, নাবিদ, তাপস, সিদ্দীক গ্রুপ। প্রতি বছর আগস্ট আসলেই তাদের চাঁদাবাজি রিতিমতো অতিষ্ঠ হন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। শুধু গুলশান নয় বনানীর ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ তাদের চাঁদাবাজিতে। গুলশান-১ নম্বরের নাভানা টাওয়ারের “দি লাইফ স্টাইল সলিউশন’ এবং ‘হানিমুন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসে’ ঢুকে পড়েন ‘আমরা তরুণ’র চারজন। পুরো ঘটনা প্রতিষ্ঠানটির পর্যবেক্ষণ ক্যামেরায় (আইপি) রেকর্ড হয়।

ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে হানিমুন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসে ঢুকে তারা বলেন, ‘আমরা ওইদিন যে এসে কার্ড দিয়ে গেলাম…।’ এ পর্যায়ে তেমন সাড়া না পেয়ে একজন বলেন, ‘আমি গুলশান থানা ছাত্রলীগের পাঁচবারের সাংগঠনিক সম্পাদক।’ তিনি পরিচয় করিয়ে দেন তার সঙ্গীদের, ‘ও হচ্ছে গুলশান থানার দপ্তর সম্পাদক, আর সে মহানগর ছাত্রলীগের সম্পাদক। আরও আছে আমাদের সঙ্গে। ওরা নিচে দাঁড়িয়ে আছে। কারণ ওপরে এতো লোক দরকার নেই।’

দি লাইফ স্টাইল সলিউশন এর কর্মীরা বলেন, ‘হুমকির মুখে চাঁদা দ্রুত দিয়ে দিতে চাপ দিচ্ছিলেন চারজন। বাধ্য হয়ে তাদের মালিক আবীর বিন আলী আহমদ এক লক্ষ টাকা দিতে হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একইভাবে এই চারজন নাভানা টাওয়ারের বড় বড় সবগুলো প্রতিষ্ঠানে ঢোকেন। আর দাওয়াত কার্ডের কথা মনে করিয়ে চাঁদা দাবি করেন।

হানিমুন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাজু আহমেদ বলেন, ‘এটা নতুন নয়। এই পরিচয়ে চাঁদাবাজির কারণে দোকানের শাটার বহুবার বন্ধ করে দিতে চেয়েছি। একবার একটি সংস্থার লোক পরিচয়ে ৬ ডিজিটের চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের নামে এভাবে আরও বহুবার চাঁদাবাজির শিকার হতে হয়েছে আমাদের।’

বিষয়টি ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমানকে জানানো হলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ছাত্রলীগের গুলশান থানার সভাপতি নুরসহ কয়েকজনকে পাঠান। মিজানুর রহমান কাছে দাবি করেন, ‘ছাত্রলীগ কোথাও চাঁদা দাবি করে না। গুলশানে ছাত্রলীগের কোনো সাংগঠনিক সম্পাদক নেই। তিন মাস আগে শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দিয়ে কমিটি দেওয়া হয়েছে।’

এ ব্যাপারে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এখনও কোনো ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ লাগবেও না। আমরা খবর পাওয়া মাত্রই ছুটে যাবো। গুলশানে কোনো চাঁদাবাজি চলবে না।’