নির্বাচনের আগে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা


বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১, ২০২৫, ৪:৪৯ অপরাহ্ন

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত একান্ত অপরিহার্য কারণ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। গত ২১ অক্টোবর জারি করা এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, পূর্বে জারি করা বিদেশ ভ্রমণ সীমিতকরণ সংক্রান্ত নির্দেশনাগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ না করে অনেক কর্মকর্তা এখনও বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। একই মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা, এমনকি দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ও সচিব একসঙ্গে বিদেশে যাচ্ছেন—যা সরকারি নির্দেশনার পরিপন্থী।

এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিদেশ ভ্রমণ সম্পূর্ণভাবে সীমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র একান্ত জরুরি ও জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন হলে অনুমোদন দেওয়া হবে।

এ সংক্রান্ত নির্দেশনা সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং সচিবদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে ডলার সংকটের কারণে সরকার বিদেশ ভ্রমণ সীমিত করার নির্দেশনা দিয়েছিল। গত বছরও একই ধরনের পরিপত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল।

নতুন পরিপত্রে ১৩ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

১. সাধারণভাবে বিদেশ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করা হবে।
২. বছরের সম্ভাব্য বিদেশ ভ্রমণের একটা তালিকা জানিয়ে রাখতে হবে।
৩. বিদেশ ভ্রমণের জন্য মন্ত্রণালয়ভিত্তিক ডেটাবেজ তৈরি করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এর কাঠামো তৈরি করে দেবে এবং এর তথ্য সংরক্ষণ করবে।
৪. সকল স্তরের সরকারি কর্মকর্তারা একাধারে বিদেশ ভ্রমণ পরিহার করবেন।
৫. মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ও সচিব একসঙ্গে বিদেশ ভ্রমণ সাধারণভাবে পরিহার করবেন। তবে জাতীয় স্বার্থে অনুরূপ ভ্রমণ একান্ত অপরিহার্য হলে তেমন অপরিহার্যতার বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
৬. মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অধীনস্থ অধিদপ্তর বা সংস্থা প্রধানরা ‘একান্ত অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থ’ ছাড়া একসঙ্গে বিদেশ ভ্রমণে যাবেন না।
৭. বিদেশে অনুষ্ঠেয় সেমিনার বা ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণের জন্য উপদেষ্টা ও সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের প্রস্তাবের ক্ষেত্রে আমন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো পর্যায়ের কর্মকর্তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দেশ থেকে কোন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন, সেই তথ্য যুক্ত করে দিতে হবে।
৮. বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তাব পেশের সময় ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা এবং প্রস্তাবিত কর্মকর্তার ওই কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টতা ও উপযোগিতার বিষয় উল্লেখ থাকতে হবে।
৯. কেনা-কাটা, প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন কিংবা ফ্যাক্টরি একসেপ্টেন্স টেস্ট ইত্যাদির ক্ষেত্রে কেবলমাত্র সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ পাঠানোর কথা বিবেচনা করতে হবে।
১০. সরকারি অর্থে কম প্রয়োজনীয় ভ্রমণ অবশ্যই পরিহার করতে হবে।
১১. সকল স্তরের সরকারি কর্মকর্তা বিদেশে বিনোদন ভ্রমণ পরিহার করবেন।
১২. সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষণ ছুটিতে যাওয়া পরিহার করবেন।

১৩. বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তাব পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত কর্মকর্তার পূর্ববর্তী এক বছরের বিদেশ ভ্রমণের বিস্তারিত সংযুক্ত করতে হবে।