বাগেরহাটে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক পারিবারিক ট্র্যাজেডি

কারা ফটকে শোকের দৃশ্য: প্রথমবার মৃত সন্তানকে কোলে নিয়ে স্ত্রীর মরদেহ ছুঁলেন সাদ্দাম


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২৫, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ন

বাগেরহাটে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক পারিবারিক ট্র্যাজেডির পর শনিবার সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে নেমে আসে নিস্তব্ধতা। কারাবন্দি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামকে মানবিক বিবেচনায় তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী ও নয় মাসের শিশুপুত্রের মরদেহ দেখার অনুমতি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ।

কারা সূত্র জানায়, সব আনুষ্ঠানিকতা ও নিরাপত্তা বিধি মেনে মরদেহ দুটি কারা ফটকে আনা হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় পর সাদ্দাম প্রথমবারের মতো তার মৃত সন্তানকে কোলে নেন এবং শেষবার স্ত্রীর নিথর দেহ স্পর্শ করেন। উপস্থিত কারারক্ষী ও স্বজনদের অনেকেই সেই দৃশ্য সামলাতে পারেননি।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে। পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর কারাবাসে মানসিক চাপে ভুগছিলেন স্বর্ণালী। হতাশা ও অসহায়ত্ব থেকে তিনি প্রথমে শিশুপুত্রকে পানির বালতিতে ডুবিয়ে হত্যা করেন, এরপর নিজে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, কারাগারে থাকা সাদ্দাম মাঝেমধ্যে স্ত্রীর কাছে চিরকুট পাঠিয়ে ধৈর্য ধরতে বলতেন এবং মুক্তির আশ্বাস দিতেন। তবে অনিশ্চয়তা ও দীর্ঘ প্রতীক্ষা স্বর্ণালীর মানসিক ভারসাম্য আরও দুর্বল করে তোলে।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ বলেন, সাদ্দাম গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে কারাবন্দি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মানবিক কারণে তাকে মরদেহ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রক্রিয়া শেষে তাকে পুনরায় তার ওয়ার্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

এই ঘটনা কারাবন্দিদের পরিবারের মানসিক স্বাস্থ্য, দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া এবং সামাজিক সহায়তার ঘাটতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—যার উত্তর এখনও অনিশ্চিত।