সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময়ে প্রধান উপদেষ্টা, নির্বাচন ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২৬, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ন

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সোমবার সেনাসদরের হেলমেট অডিটোরিয়ামে সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ভয়মুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা এই সময়ে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ড. ইউনূস বলেন, জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী অতীতের মতো এবারও নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে—এ বিষয়ে সরকার আশাবাদী। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার বঞ্চিত বহু নাগরিক এবং বিপুলসংখ্যক তরুণ এবার প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছে, যা এই নির্বাচনকে অতিরিক্ত তাৎপর্য দিচ্ছে।

তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্ত হতে হবে আইনসম্মত, সংযত ও দায়িত্বশীল—যাতে সামান্য কোনো বিচ্যুতিও জনআস্থাকে ক্ষুণ্ন না করে। নির্বাচন কমিশন ও বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ভাষণের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই–আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সময়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ড. ইউনূস আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকার সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইতালি, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে অনুরূপ সমঝোতা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সভাস্থলে প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান।

মতবিনিময় সভায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।