যাকাত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী হলে দারিদ্র্য কমানো সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : মার্চ ৭, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ন

যথাযথ পরিকল্পনা ও লক্ষ্যভিত্তিক বণ্টনের মাধ্যমে যাকাত ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর করা গেলে আগামী এক থেকে দেড় দশকের মধ্যে দেশে দারিদ্র্য কমাতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে আলেম-ওলামা, মাশায়েখ ও এতিম শিশুদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় চার কোটি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে দরিদ্র ও অতি দরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে পরিকল্পিতভাবে যাকাত বিতরণ করা গেলে তা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। তাঁর মতে, যদি প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে কয়েক লাখ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া যায়, তাহলে অনেক পরিবার পরবর্তী বছরগুলোতে স্বনির্ভর হয়ে উঠতে পারে।

আলেম-ওলামাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যাকাত ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল করতে সমাজের বিত্তবান মানুষকে সচেতন করার ক্ষেত্রে ধর্মীয় নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিষয়টি যৌক্তিক মনে হলে এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে তাঁদের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যাকাত ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা বাড়াতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিদ্যমান যাকাত বোর্ডকে পুনর্গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে ইসলামিক স্কলার, আলেম-ওলামা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব।

তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বছর যাকাতের সম্ভাব্য পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকা। তবে সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনার অভাবে এই অর্থ দারিদ্র্য কমাতে কতটা কার্যকর হচ্ছে—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

ইফতার অনুষ্ঠানে এতিম শিশুদের বিশেষ অতিথি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোরআন ও হাদিসে এতিমদের অধিকার রক্ষার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সমাজে এ দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতেই এমন আয়োজনের প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে।

রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংযম ও মানবিকতার এই সময়ে কেউ যেন অতিরিক্ত মুনাফার জন্য মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে না দেয়। ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বানও জানান তিনি।