ইরানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৮ লক্ষ কোটি টাকা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১০, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ন

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ছয় সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতের পর ইরান বিপুল অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ইসরায়েলি দৈনিক জেরুজালেম পোস্ট-এর বরাতে বলা হয়, এই যুদ্ধের ফলে ইরানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ১৪০ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ কোটি টাকার সমান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ইরানের সামরিক অবকাঠামো, নৌসম্পদ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দেশটির সামরিক সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

যুদ্ধে প্রায় ২,০৭৬ জন নিহত এবং ২৬,৫০০ জনের মতো আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র এবং জাহাজ নির্মাণ অবকাঠামোর বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। বিভিন্ন অস্ত্রভাণ্ডার ও লঞ্চার স্থাপনার কার্যকারিতাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের নাতাঞ্জ, ইয়াজদ ও আরাকসহ গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলায় দেশটির পরমাণু কর্মসূচি ৮ থেকে ১৫ বছর পিছিয়ে গেছে।

এদিকে ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, যুদ্ধের ফলে দেশজুড়ে ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্থাটির প্রধান পিরহোসেইন কলিভান্দ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে জানান, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে প্রায় এক লাখ আবাসিক ভবন রয়েছে, যার একটি অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, ২৩ হাজার ৫০০টি বাণিজ্যিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পাশাপাশি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ফার্মেসি ও জরুরি চিকিৎসা কেন্দ্রসহ ৩৯৯টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ক্ষতির শিকার হয়েছে।

শিক্ষাখাতে ক্ষয়ক্ষতির তথ্যও তুলে ধরে তিনি জানান, ৮৭৫টি স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া রেড ক্রিসেন্টের অন্তত ২০টি কার্যালয়, গুদাম ও শাখা সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির পৃথক হিসাব এখনো প্রকাশ করা হয়নি।