ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা ২১ ঘণ্টার বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর তেহরান স্পষ্ট করেছে—এক দফা আলোচনায় সমাধানের প্রত্যাশা কখনোই বাস্তবসম্মত ছিল না। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই এই অবস্থান তুলে ধরেছেন।
তার ভাষায়, “এই দ্বন্দ্ব বহু বছরের—এটি সমাধান করতে সময় লাগবে।” তিনি ইঙ্গিত দেন, আলোচনার ব্যর্থতা সত্ত্বেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থেমে থাকবে না।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মন্তব্য মূলত বৈঠকের ব্যর্থতাকে বাস্তবতার আলোকে ব্যাখ্যা করার একটি কৌশল। কারণ, পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার—এসব ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থান এখনও অনেক দূরে।
ফেব্রুয়ারিতে সংলাপ ভেঙে যাওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানের মুখে ইরান বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এর মধ্যেই সর্বোচ্চ নেতৃত্বে পরিবর্তন ও আঞ্চলিক অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
যুদ্ধবিরতির পর শুরু হওয়া এই সংলাপকে একটি সম্ভাব্য ‘ব্রেকথ্রু’ হিসেবে দেখা হলেও, বাস্তবে তা অচলাবস্থার প্রতিফলনই তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং কঠোর শর্তের কারণে দ্রুত সমঝোতার সম্ভাবনা খুবই সীমিত।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদ বৈঠক হয়তো কোনো চুক্তি আনতে পারেনি, তবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে—সমাধান এখনও দূরে, কিন্তু কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
আপনার মতামত লিখুন :