৪ গ্রাম ইউরেনিয়ামে ৪১৭ লিটার ডিজেলের সমান শক্তি


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ন

মাত্র সাড়ে ৪ গ্রাম ইউরেনিয়াম পেলেট—কিন্তু শক্তি উৎপাদনে তার সক্ষমতা প্রায় ৪১৭ লিটার ডিজেলের সমান। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং শুরুর প্রাক্কালে এই তথ্য সামনে আসায় পারমাণবিক শক্তির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ক্ষুদ্রাকৃতির একটি ইউরেনিয়াম পেলেট থেকে যে পরিমাণ শক্তি উৎপাদন সম্ভব, একই শক্তি পেতে প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ৪০০ কেজি কয়লা, ৩৬০ ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস অথবা সাড়ে তিনশ কেজির বেশি ডিজেল, যা প্রায় ৪১৭ লিটারের সমান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তি ঘনত্বের দিক থেকে পারমাণবিক জ্বালানি প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় বহুগুণ এগিয়ে। এক কেজি নিউক্লিয়ার জ্বালানির শক্তি সক্ষমতা প্রায় ৬০ টন জ্বালানি তেল বা ১০০ টন কয়লার সমতুল্য বলে ধরা হয়।

জ্বালানি সংকট, আমদানি ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ নিরাপত্তার প্রশ্নে এই প্রযুক্তি বাংলাদেশের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। রূপপুর প্রকল্প চালু হলে জাতীয় গ্রিডে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহে এর বড় ভূমিকা থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে পারমাণবিক শক্তির ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ইস্যু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে। এ কারণে ইউরেনিয়াম জ্বালানি বিশেষ প্রযুক্তিতে তৈরি, সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হয়, যাতে তেজস্ক্রিয়তা বাইরে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি না থাকে।

নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টরের প্রথম নিরাপত্তা স্তর হিসেবে কাজ করে ফুয়েল পেলেট, যেখানে তেজস্ক্রিয় উপাদান নিয়ন্ত্রিতভাবে আবদ্ধ থাকে। দ্বিতীয় স্তরে এটি জিরকোনিয়াম অ্যালয়ের বিশেষ আবরণে সুরক্ষিত থাকে, যা অতিরিক্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

বিশ্লেষকদের মতে, রূপপুর শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প নয়, এটি বাংলাদেশের জ্বালানি নীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প শক্তির পথে এগোনোর বাস্তব উদাহরণ হিসেবেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ।