মাত্র পাঁচ বছর আগেও Suvendu Adhikari ছিলেন Mamata Banerjee-এর অন্যতম আস্থাভাজন রাজনৈতিক সহযোদ্ধা। রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি।
কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে সেই রাজনৈতিক সম্পর্ক রূপ নেয় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্বাচনে পরাজিত করে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম Outlook India-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক পরিচিতি মূলত তিনটি কারণে—নন্দীগ্রাম আন্দোলনে নেতৃত্ব, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান।
নন্দীগ্রাম আন্দোলনেই উত্থান
২০০৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার Nandigram-এ শিল্পাঞ্চল গড়তে জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেয়। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলেন শুভেন্দু। স্থানীয়দের কাছে তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন ‘নন্দীগ্রামের হিরো’ হিসেবে।
এই আন্দোলনই রাজ্যের দীর্ঘদিনের বাম শাসনের ভিত নড়িয়ে দেয় এবং ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসে।
তৃণমূলে উত্থান ও দূরত্বের শুরু
রাজনৈতিক পরিবার থেকেই উঠে আসা শুভেন্দুর বাবা শিশির অধিকারীও ছিলেন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ। পরিবারটি শুরুতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেয়।
২০০৯ সালে তামলুক লোকসভা আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শুভেন্দু। ২০১৪ সালেও একই আসনে জয় পান। পরে ২০১৬ সালে সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে রাজ্যের পরিবহন ও সেচ মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেন।
২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসে মমতার পর সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা হিসেবেই বিবেচনা করা হতো শুভেন্দুকে। তবে সময়ের সঙ্গে দলের অভ্যন্তরে দূরত্ব বাড়তে থাকে। বিশেষ করে মমতার ভাতিজা Abhishek Banerjee-এর প্রভাব বৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
বিজেপিতে যোগ ও রাজনৈতিক মোড়
দীর্ঘ জল্পনার পর ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তৃণমূল কংগ্রেসের সব পদ ছাড়েন শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারের মন্ত্রিত্ব থেকেও পদত্যাগ করেন। পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah-এর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন।
এরপর ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সেই নির্বাচনে প্রায় দুই হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন শুভেন্দু।
সাম্প্রতিক নির্বাচনেও রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টে যায়। ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বড় ব্যবধানে পরাজিত করার পাশাপাশি বিজেপি ২৯৪ আসনের বিধানসভায় ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের অন্যতম সংগঠক থেকে বিজেপির মুখ হয়ে ওঠা শুভেন্দু অধিকারীর উত্থান পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
আপনার মতামত লিখুন :