ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে একনেকের চূড়ান্ত অনুমোদন


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : মে ১৩, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ন

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানিসংকট নিরসন এবং শুষ্ক মৌসুমে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়।

সরকারি সূত্র জানায়, প্রকল্পটির মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি উৎপাদনে এটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

প্রকল্পের আওতায় পদ্মা নদীতে প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদী ব্যবস্থার পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। দীর্ঘদিন ধরে নাব্যতা সংকট, পানির স্বল্পতা এবং লবণাক্ততার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এই উদ্যোগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছে সরকার।

প্রথম ধাপে গড়াই-মধুমতি নদীর প্রায় ১৩৬ কিলোমিটার এবং হিসনা নদী ব্যবস্থার প্রায় ২৪৬ কিলোমিটার এলাকায় ড্রেজিং ও পুনঃখনন কাজ করা হবে। এছাড়া ব্যারাজের সঙ্গে ১৫টি স্পিলওয়ে, নেভিগেশন লক, ফিশ পাস এবং ৩৬ দশমিক ৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও আশপাশের এলাকা সুরক্ষায় প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ অ্যাফ্লাক্স বাঁধও নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পের প্রথম ধাপ বাস্তবায়িত হলে খুলনা, রাজশাহী, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের অন্তত ১৯টি জেলার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। কৃষি, মৎস্য, নৌপরিবহন ও সুপেয় পানির সরবরাহ ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলোতে পানির প্রবাহ বাড়লে সেচব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপে অতিরিক্ত অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি আরও কয়েকটি নদী ব্যবস্থার পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পুরো প্রকল্প এলাকা দেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৩৭ শতাংশজুড়ে বিস্তৃত, যা ২৬টি জেলার ১৬৩টি উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি পানি সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে নতুন গতি তৈরি হতে পারে। তবে এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়মতো অর্থায়ন, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং সুশাসন নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।