পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল কি না— সেই বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একটি ফাঁস হওয়া কূটনৈতিক নথিকে ঘিরে দেশটির রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) মার্কিন অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ড্রপ সাইট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০২২ সালে ইসলামাবাদের প্রতি ওয়াশিংটনের অসন্তোষ স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল এবং ইমরান খানকে সরানো হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে পারে— এমন ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিবেদনটি পাকিস্তানের বহুল আলোচিত ‘সাইফার’ কূটনৈতিক নথির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এতে ২০২২ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত তৎকালীন পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খান এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর মধ্যে বৈঠকের কথোপকথনের বিবরণ উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নেওয়া, মস্কোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখা এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারে আপত্তির কারণে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইমরান খানের সরকারের দূরত্ব বাড়ে।
ইমরান খান বরাবরই দাবি করে আসছেন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করায় তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিদেশি শক্তি ও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় হয়েছিল। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি পাকিস্তানের কয়েকটি রাজনৈতিক দলও এ প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সে সময় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেছিলেন, পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
ফাঁস হওয়া নথির দাবি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত বৈঠকে পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতকে জানানো হয়, অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব পরিবর্তন হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের উত্তেজনা কমতে পারে।
এর এক মাস পর, ২০২২ সালের ৯ এপ্রিল পাকিস্তানের পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারান ইমরান খান। পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয় এবং বর্তমানে তিনি ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি কারাগারে রয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইমরান খানের সরকার পতনের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তনের আভাস দেখা যায় এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ বাড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, ফাঁস হওয়া নথি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, সেনাবাহিনীর ভূমিকা এবং যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। তবে নথিটির পূর্ণ সত্যতা এবং এর কূটনৈতিক প্রভাব নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আন্তর্জাতিক তদন্ত বা চূড়ান্ত মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :