‘স্বপ্নের সেতু’ পরিদর্শনে গিয়ে উত্তেজনা, বাউফলে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ সেতুমন্ত্রী


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : মে ১৯, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ন

পটুয়াখালীর বাউফলে লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত ‘স্বপ্নের সেতু’ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে গিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার মুখে পড়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে বাউফলের বগা ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেতুমন্ত্রী দুপুর ১টার দিকে বগা ফেরিঘাটে পৌঁছান। পরে তিনি ফেরিযোগে লোহালিয়া নদীর পূর্বপাড়ে যান, যেখানে প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণ নিয়ে একটি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। ওই সভার আয়োজক ছিলেন বাউফল আসনের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

তবে মন্ত্রীর ওই সভায় অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে আপত্তি দেখা দেয়। মন্ত্রী পূর্বপাড়ে পৌঁছানোর পর দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সেতুমন্ত্রীর গাড়িবহর ঘিরে ফেলা হয় এবং পাল্টাপাল্টি স্লোগানে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত মন্ত্রীর বহর কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিল। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কায় সেতুমন্ত্রী একই ফেরিতে পশ্চিমপাড়ে ফিরে যান এবং সেখান থেকে পটুয়াখালীর উদ্দেশে রওনা দেন।

ঘটনাস্থলে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। সেখানে পটুয়াখালীর সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির নেতারা এবং সেতুমন্ত্রীর সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, সভার ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। তবে পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

এ ঘটনায় সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম কিংবা জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।

উল্লেখ্য, বাউফলের লোহালিয়া নদীর ওপর বাংলাদেশ-চীন নবম মৈত্রী সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা পূর্ববর্তী সরকারের সময় নেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রকল্পটির অগ্রগতি থেমে যায়। পরে জাতীয় সংসদে এ সেতুর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে পুনরায় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

সাম্প্রতিক এই উত্তেজনার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।