ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের কৌশলগত সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন দেশটিতে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের একটি গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানবিরোধী সামরিক পরিকল্পনায় সৌদি আরবের সহযোগিতা না পাওয়ায় দুই দেশের সম্পর্ক আগের তুলনায় অনেক বেশি শীতল হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজ নিরাপদে সরিয়ে নিতে এবং ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি সামরিক অভিযান পরিকল্পনা করেছিল। তবে সৌদি আরব তাদের সামরিক ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরে জানান, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক অগ্রগতির কারণে ওই অভিযান বাতিল করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সৌদি আরবের অবস্থানে অসন্তুষ্ট হয়ে যুক্তরাষ্ট্র রিয়াদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ স্থগিতের হুমকি দিয়েছিল।
কূটনৈতিক দূরত্ব আরও স্পষ্ট
সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ সফর করলেও সৌদি আরব সফর করেননি। বিষয়টি রিয়াদ কূটনৈতিক অবহেলা হিসেবে দেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণও প্রত্যাখ্যান করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির প্রতি সৌদি অসন্তোষের প্রতিফলন।
যুদ্ধের আগে সতর্ক করেছিল সৌদি আরব
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে সৌদি আরব ট্রাম্প প্রশাসনকে সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিল। রিয়াদের আশঙ্কা ছিল, ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা হলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
যদিও যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর নিরাপত্তার স্বার্থে সৌদি আরবসহ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সীমিত পরিসরে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়। একই সময়ে সৌদি আরবও ইরানের কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলা চালায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সমঝোতার চেষ্টা
যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমনে পরে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সময়সূচি নির্ধারণ করে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের কারণে ওই সমঝোতা নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে ইসরাইল এই সমঝোতার বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, এতে ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধের মূল লক্ষ্য অর্জিত হয়নি।
আপনার মতামত লিখুন :