কেপ ভার্দে ও মিশরের বিপক্ষে ঘাম ঝরানো জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা আর্জেন্টিনা এখন শেষ আটে। রোববার কানসাস সিটিতে সেমিফাইনালের টিকিট কাটার লড়াইয়ে তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড।
পরিসংখ্যান বলছে, সুইসদের বিপক্ষে আলবিসেলেস্তেদের কোনো হারের রেকর্ড নেই। তবে ইতিহাস যতই পক্ষে থাকুক, ইউরোপিয়ান এই প্রতিপক্ষকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নিচ্ছে না লিওনেল স্কালোনির দল।
ইতোমধ্যেই সুইজারল্যান্ডের শক্তিমত্তা ও খেলার ধরন নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ বা ‘ব্যবচ্ছেদ’ শেষ করেছে আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফ। আর সেই বিশ্লেষণের আলোকেই ম্যাচটিকে অত্যন্ত কঠিন এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন স্কালোনির সহকারী ও আর্জেন্টিনার সাবেক তারকা ডিফেন্ডার ওয়াল্টার স্যামুয়েল।
সুইসদের শক্তিমত্তা: কেবল শরীরী ফুটবল নয়, মাথা খাটানোর খেলা
সুইজারল্যান্ড মানেই কেবল রক্ষণাত্মক ফুটবল কিংবা শারীরিক শক্তির মহড়া—এমন চেনা ধারণাকে নাকচ করে দিয়েছেন ওয়াল্টার স্যামুয়েল। প্রতিপক্ষকে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি বলেন:
”তারা অত্যন্ত গোছানো এবং শারীরিক শক্তির দিক থেকে বেশ এগিয়ে। তবে কেবল এটাই তাদের পরিচয় নয়; তাদের দলে দারুণ গুণগত মানসম্পন্ন ফুটবলার আছে। গ্রানিত জাকা কিংবা মানুয়েল আকানজিদের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড়রা যেকোনো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ওদের ডিফেন্ডাররা বল পায়ে দারুণ শান্ত এবং নিচ থেকে খেলা তৈরি করে আক্রমণভাগে উঠতে ও ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারদর্শী।”
নিজেদের শক্তিতেই আস্থা আর্জেন্টিনার:
সুইসদের শক্তির জায়গাগুলো চিহ্নিত করলেও আর্জেন্টিনা নিজেদের ফুটবল দর্শন থেকে সরছে না। স্যামুয়েলের মতে, প্রতিপক্ষকে সমীহ করা হলেও মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখাই মূল লক্ষ্য। ম্যাচের মনোভাব ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে তিনি এক বাক্যে বলেন, “আমরা প্রতিপক্ষের দিকে তাকাই, তবে আমরা সবার আগে আমাদের নিজেদের খেলা নিয়ে ভাবি।” অর্থাৎ, প্রতিপক্ষের শক্তির কাউন্টার করার পাশাপাশি নিজেদের সেই চেনা ছন্দের ওপরই শতভাগ আস্থা রাখছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা, যা তাদের চূড়ায় নিয়ে গেছে।
লক্ষ্য যখন ‘অবিশ্বাস্য’ ফাইনাল
কোয়ার্টার ফাইনালের এই রোমাঞ্চকর মঞ্চে দাঁড়িয়ে দলের ভেতরের আকাশচুম্বী উচ্চাকাঙ্ক্ষাও আড়াল করেননি স্যামুয়েল। সেরা আটে এলেও তাদের চোখ এখন আরও দূরে। ট্রফির সুবাস পেতে ব্যাকুল পুরো দল। ফাইনাল নিয়ে নিজেদের রোমাঞ্চের কথা স্বীকার করে সাবেক এই ডিফেন্ডার বলেন:
”ফাইনালে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে আমরা সবাই রোমাঞ্চিত। তবে আমাদের ধাপে ধাপে এগোতে হবে। সামনে সুইজারল্যান্ডের মতো কঠিন বাধা, প্রথমে আমাদের এটি পার হতে হবে। আমরা আশাবাদী যে নিজেদের লক্ষ্য পূরণ করে ফাইনালে পৌঁছাতে পারব, যা হবে অবিশ্বাস্য এক অনুভূতি। আর সেখানে পৌঁছাতে পারলে সুযোগগুলো লুফে নিতে আমাদের ভুল করা চলবে না।”
কানসাস সিটির রোববারের মহারণে কি সুইজারল্যান্ডের জমাট রক্ষণ ভেঙে সেমির টিকিট কাটবে মেসি-আলভারেজরা? নাকি সুইসরা তৈরি করবে নতুন কোনো রূপকথা? উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়েই। তবে আর্জেন্টিনা যে কোমর বেঁধেই নামছে, তা ওয়াল্টার স্যামুয়েলের এই সতর্ক অথচ আত্মবিশ্বাসী বিশ্লেষণেই স্পষ্ট।
আপনার মতামত লিখুন :