আন্দোলনের মধ্যেই এইচএসসি পরীক্ষা, অনুপস্থিত ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৫, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ন

শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মধ্যেই চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন পাঁচ জেলা বাদে দেশের ৫৯ জেলায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত তিনটি বিষয়ের দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ২০ হাজার ৫২ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ১৫ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, সাধারণ আটটি শিক্ষা বোর্ডে পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় মোট ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৮৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেন ৪ লাখ ৪১ হাজার ৭৩৮ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ১২ হাজার ১০১ জন এবং বহিষ্কার হন ১০ জন। এ বোর্ডগুলোতে গড় অনুপস্থিতির হার ছিল ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় আরবি দ্বিতীয়পত্রে ৬৮ হাজার ৬০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪ হাজার ৮৫৫ জন অনুপস্থিত ছিলেন। এ বোর্ডে বহিষ্কার হয়েছেন পাঁচজন এবং অনুপস্থিতির হার ছিল ৭ দশমিক ০৯ শতাংশ। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৩ হাজার ৯৬ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলেও কোনো পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হননি। সেখানে গড় অনুপস্থিতির হার ছিল ৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

এর আগে গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত একই বিষয়গুলোর প্রথমপত্র পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন ১৯ হাজার ৫৯২ জন। সে তুলনায় দ্বিতীয়পত্রে অনুপস্থিতি বেড়েছে প্রায় ৫০০ জন। তবে বহিষ্কারের সংখ্যা কমেছে; প্রথমপত্র পরীক্ষায় যেখানে ২৯ জন বহিষ্কৃত হয়েছিলেন, সেখানে দ্বিতীয়পত্রে বহিষ্কার হয়েছেন ১৫ জন।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষা নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সারা দেশের অন্তত ৩০ জেলায় বিক্ষোভ করেন পরীক্ষার্থীরা। তাদের কয়েকটি দাবি বাস্তবায়নের ঘোষণা এলেও বুধবারের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়নি। ফলে অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

পরীক্ষা শেষে দুপুর ২টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘লং মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচি শুরু করেন। সায়েন্সল্যাব মোড়ে সমবেত হয়ে তারা শিক্ষা ভবন ও সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হন। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি এখন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ।