বেলুচিস্তান কি সত্যিই স্বাধীন হচ্ছে? পাকিস্তান ভাঙার দাবির বাস্তবতা কী


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ২১, ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘রিপাবলিক অব বেলুচিস্তান’-এর নামে প্রকাশিত একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ বেলুচিস্তান।
চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, বেলুচিস্তান আর পাকিস্তানের অংশ নয় এবং স্বাধীনতাকামী বাহিনী ইতোমধ্যে অঞ্চলটির প্রায় ৮৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বা নিরপেক্ষ সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বর্তমান বাস্তবতায় পাকিস্তান সরকার এখনো বেলুচিস্তানের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। যদিও দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে, তবুও স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণার অর্থ এই নয় যে বেলুচিস্তান আন্তর্জাতিকভাবে একটি নতুন দেশে পরিণত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী একটি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেতে ১৯৩৩ সালের মন্টভিডিও কনভেনশনের চারটি মৌলিক শর্ত পূরণ করতে হয়। এগুলো হলো—স্থায়ী জনসংখ্যা, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, কার্যকর সরকার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনার সক্ষমতা। বেলুচিস্তানের নিজস্ব জনসংখ্যা ও জাতিগত পরিচয় থাকলেও নির্দিষ্ট সীমান্ত, কার্যকর রাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বড় বাধা হলো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। জাতিসংঘের সদস্য হতে হলে প্রথমে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে অন্তত ৯টি দেশের সমর্থন এবং যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে কোনো দেশের ভেটো না থাকা প্রয়োজন। এরপর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থনও প্রয়োজন হয়।

বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার পথে ভূরাজনৈতিক বাস্তবতাও বড় বাধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাকিস্তান তার বৃহত্তম প্রদেশ হারাতে রাজি নয়। একই সঙ্গে ইরান ও আফগানিস্তানেও উল্লেখযোগ্য বেলুচ জনগোষ্ঠী থাকায় তারাও এমন উদ্যোগের বিরোধিতা করতে পারে। এছাড়া চীনের বহু বিলিয়ন ডলারের চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (CPEC) এবং গওয়াদর বন্দর বেলুচিস্তানে অবস্থিত হওয়ায় বেইজিংয়ের অবস্থানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইতিহাসের উদাহরণও ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। দক্ষিণ সুদান আন্তর্জাতিক সমর্থন ও রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পেয়েছিল। বিপরীতে, নিজস্ব সরকার, সেনাবাহিনী ও শক্তিশালী অর্থনীতি থাকা সত্ত্বেও তাইওয়ান এখনো অধিকাংশ দেশের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়নি।

ফলে বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি চিঠি প্রকাশ বা নিয়ন্ত্রণের দাবি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সমান নয়। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, কার্যকর রাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক সমর্থন ছাড়া বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার পথ এখনো অত্যন্ত জটিল।