মৃত্যুর প্রায় ২৫ বছর পর প্রখ্যাত সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক আহমদ ছফার দেহাবশেষ মিরপুরের বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের মূল অংশে স্থানান্তর করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন হয় বলে জানিয়েছেন কবি ও প্রাবন্ধিক সাখাওয়াত টিপু।
আহমদ ছফা ২০০১ সালের ২৮ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন। সে সময় তাকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের সাধারণ অংশে দাফন করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদাপ্রাপ্ত বুদ্ধিজীবীদের জন্য নির্ধারিত অংশে দাফনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ‘আহমদ ছফা স্মৃতিবক্তৃতা ২০২৬’ অনুষ্ঠানে অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেন, তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও কবরস্থানের ব্যবস্থাপনায় থাকা ব্যক্তিদের কারণে আহমদ ছফাকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও দাবি করেন, ছফার দাফন সম্পন্ন করতে গিয়ে ঘুষ দেওয়ার মতো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিরও মুখোমুখি হতে হয়েছিল।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আহমদ ছফার দেহাবশেষ রাষ্ট্রীয় মর্যাদাপূর্ণ অংশে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ প্রক্রিয়ায় অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, ছফার পরিবারের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠজনেরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। অবশেষে দীর্ঘ ২৫ বছর পর তাকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের নির্ধারিত অংশে পুনরায় সমাহিত করা হলো।
আহমদ ছফা বাংলা সাহিত্য, সমাজচিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তার দেহাবশেষ স্থানান্তরকে অনেকেই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মান প্রদর্শনের একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
আপনার মতামত লিখুন :