একই পদে ২৫ বছর: পদোন্নতি ছাড়াই অবসরে যাচ্ছেন মাঠপ্রশাসনের কর্মকর্তারা

​স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও তৈরি হয়নি পদসোপান; বঞ্চনা দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ চেয়ে স্মারকলিপি


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২০, ২০২৬, ২:০৮ অপরাহ্ন

​মাঠপ্রশাসনের মূল চালিকাশক্তি হলেও গত ৫৫ বছরে পদোন্নতির কোনো সোপান তৈরি হয়নি বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের।

ফলে ১০ম গ্রেডে চাকরিতে ঢুকে জীবনের ২০ থেকে ২৫ বছর একই পদে কাটিয়ে পদোন্নতি ছাড়াই খালি হাতে অবসরে যেতে হচ্ছে তাদের।
​বর্তমানে দেশের ৮টি বিভাগীয় কমিশনার, ৬৪টি জেলা প্রশাসক এবং সব উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে প্রায় ৮৩০ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা কর্মরত। মাঠপর্যায়ে সরকার পরিচালনা, উন্নয়নমূলক কাজ তদারকি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নির্বাচন পরিচালনা এবং নিত্যদিনের জটিল প্রশাসনিক সেবা সুনিশ্চিত করতে এরা অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। কিন্তু দাপ্তরিক কাজের বহর বাড়লেও কাটেনি তাদের পেশাগত জীবনের স্থবিরতা।
​আইন আছে, সুযোগ নেই
‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’-এর ১৮ নম্বর ধারায় সব সরকারি কর্মচারীর জন্য সুষ্ঠু ক্যারিয়ার প্ল্যানিং বা কর্মজীবন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা বাধ্যতামূলক। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুলিশ, খাদ্য কিংবা কৃষি দপ্তরের মতো সংস্থায় পদোন্নতির ধারাবাহিক সুযোগ থাকলেও ব্যতিক্রম শুধু মাঠপ্রশাসন।
​এমনকি ‘বাংলাদেশ সচিবালয় নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৪’ অনুযায়ী সচিবালয়ে ২০তম গ্রেডের একজন অফিস সহায়কও মেধা ও দক্ষতার জোরে পদোন্নতি পেয়ে উপ-সচিব (ক্যাডার বহির্ভূত) পর্যন্ত হওয়ার আইনি সুযোগ পান। অথচ একই যোগ্যতায় মাঠপ্রশাসনে যোগ দিয়েও কোনো কর্মকর্তা জীবনে একটি পদোন্নতিও পান না। কর্মকর্তারা বলছেন, এটি স্পষ্টতই সংবিধানের সাম্যের নীতির পরিপন্থী এবং চরম বৈষম্যমূলক।
​”দীর্ঘদিন একই পদে আটকে থাকায় কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র হতাশা কাজ করছে। অন্যান্য দপ্তরে পদোন্নতির চমৎকার পথ থাকলেও মাঠপ্রশাসনে তা পুরোপুরি বন্ধ। একটি সুষ্ঠু পদসোপান তৈরি হলে কর্মীরা নতুন উদ্যোমে কাজ করার অনুপ্রেরণা পাবেন।”
— এস এম জাহিদুল ইসলাম, সভাপতি, বাংলাদেশ মাঠপ্রশাসন প্রশাসনিক কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতি
​কর্মশালার সিদ্ধান্তও আটকে ফাইলবন্দী
এই বঞ্চনা নিরসনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিগত ২০২৪ সালের জুন মাসে একটি বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করেছিল। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে ১৬তম গ্রেড থেকে শুরু করে ১০ম গ্রেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং এর ওপরে ৯ম গ্রেডে ‘সেকশন অফিসার’ ও ৭ম/৮ম গ্রেডে ‘সিনিয়র সেকশন অফিসার’ পদ সৃজনের সুপারিশ করা হয়।
​পরবর্তীকালে ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২৫’-এও এই সুপারিশ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত পুনরুমোদন করা হয়। কিন্তু মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পার হলেও এসব সুপারিশ ও সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রতিফলন এখনো দৃশ্যমান হয়নি।
​প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন
এই বৈষম্যের চিরতরে অবসান ঘটাতে ‘বাংলাদেশ মাঠপ্রশাসন প্রশাসনিক কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতি’র উদ্যোগে আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ২০২৬) সারা দেশের ৮টি বিভাগীয় কমিশনার এবং ৬৪টি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে।
​কর্মকর্তারা আশা করছেন, মাঠপ্রশাসনকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে এবং কর্মকর্তাদের কাজের মানসিক উদ্দীপনা ফিরিয়ে আনতে দেশের সরকারপ্রধান অতি দ্রুত ৯ম ও ৭ম/৮ম গ্রেডের নতুন পদসোপান অনুমোদনের নির্দেশ দেবেন।