:: সিলেট প্রতিনিধি ::
বিয়ানীবাজারে বাড়ি ফেরার পথে সাদা পোশাকে মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্য এনফোর্সমেন্ট অফ হিউম্যান রাইটস (বিএসইএইচআর) এর কর্মী মো. আলমগীর তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে র্যাবের বিরুদ্ধে। তবে তুলে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে সিলেট র্যাব-৯ অফিস।
সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সিলেটের উপশহর এলাকা থেকে তাকে গাড়িতে তুলে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। মো. আলমগীরকে বিয়ানীবাজার উপজেলার বিএসইএইচআর থানা প্রতিনিধি।
যেভাবে তুলে নেওয়া হয়: নাফিজ মোহাম্মদ আলম যিনি র্যাবের হেফাজত থেকে বেঁচে ফেরা একজন মানুষ। মোঃ আলমগীর তার ঘটনার বিস্তারি তথ্য নিতে চেয়েছিলেন। যিনি বর্ণনা করেছিলেন কীভাবে র্যাব তাকে নির্যাতন করেছিল। মোঃ আলমগীর র্যাবের হেফাজতে বেঁচে ফেরা নাফিজ মোহাম্মদ আলমের বাড়ি থেকে তথ্যর জন্য সিলেটের উপশহর এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে সামনে সাদা পোশাকধারী কয়েকজন তার গতিরোধ করেন।নিজেদের র্যাব কর্মকর্তা বলে পরিচয় দিয়েছিল, তখন তারা তার পথ আটকে দেয়। মো. আলমগীরকে তল্লাশি করে তাঁর পরিচয়পত্র দেখে জানতে পারে তিনি একজন মানবাধিকার কর্মী। এসময় র্যাবের কর্মকর্তারা আলমগীরকে নাফিজ আলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুনেন বলে জানান ঘটনার এক মাত্র প্রত্যক্ষদর্শী ওই বাড়ির প্রহরী।
মো. আলমগীরের স্ত্রী সুলতানা জাহান বলেন, ‘খবর পেয়ে থানা ও র্যাব-৯ অফিস খোঁজ নিয়েছি। তবে কেউ তার খোঁজ দিতে পারছে না।’তিনি আরও বলেন, ‘গত মোমবার দিন-দুপুরে একদল লোক এভাবে একটি লোককে তুলে নিয়ে যাবে আর আমদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কিছুই বলতে পারে না আমরা কোন দেশে বাস করি?।
ঘটনার একদিন পর তার আরেক সহকর্মী বাংলাদেশ মানবাধিকার সংস্থা (বিএসইএইচআর)-এর সাথারণ সম্পাদক মোসাম্মৎ জাহানারা খানম স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে বিষয়টি জানালে শহর জোড়ে আলোচনার ঝড় উঠে।
বাংলাদেশ মানবাধিকার সংস্থা (বিএসইএইচআর) এর একটি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন মো. আলমগীরকে সাদা পোশাকে থাকা একদল সশস্ত্র লোকের কাছ থেকে যাচ্ছিলেন, যারা নিজেদের র্যাব কর্মকর্তা বলে পরিচয় দিয়েছিল, তখন পথ আটকে তারা মো. আলমগীরকে তল্লাশি করে। তাঁর পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে জানতে পারে তিনি একজন মানবাধিকার কর্মী। র্যাবের কর্মকর্তারা আলমগীরকে নাফিজ মোহাম্মদ আলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং ঘটনাস্থলেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে। সৌভাগ্যবশত, প্রহরী এই ঘটনাটি দেখে আলমগীরের দেওয়া বিএসইএইচআর অফিসের নম্বরে ফোন করে র্যাবের হাতে আলমগীরের গ্রেপ্তারের খবর তারা জানতে পারেন। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেন যে, ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরেও প্রধানমন্ত্রী র্যাবের মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।
উল্লিখিত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সাদা পোশাকে অভিযান চালাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের শুরু থেকেই র্যাব গুম, হত্যার সাথে জড়িত থাকায় আলোচনায় আসে। পরে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে কিছু দিন র্যাব নিরব ভুমিকা থাকলেও এখন আবারো এরকম অভিযান চালিয়ে নিরীহ লোকজনকে আটক করে হয়রানি করা হচ্ছে। আবার ‘অনৈতিক আবদার’ মেটানোর পর ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের পরিবারকে জিম্মি করে টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
আপনার মতামত লিখুন :