:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আয়োজনে ৪০ লাখ ইউরো (প্রায় ৪৭ কোটি টাকা) অনুদান দেবে। মঙ্গলবার রাজধানীর নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আওয়ালের সঙ্গে বৈঠক শেষে ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এই সহায়তার লক্ষ্য “স্বাধীন, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা”।
ইইউ রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল সিইসির সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় নির্বাচনী সংস্কার, ভোটার শিক্ষা ও ভুয়া তথ্য প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে। হোয়াইটলি জানান, আগামী মাসে ইইউ’র প্রাক-নির্বাচনী বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে এসে পরিবেশ মূল্যায়ন করবে। এছাড়া স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংগঠনগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নির্বাচন কমিশনের কারিগরি সহায়তায় বিশেষজ্ঞ পাঠানো হবে।
রাষ্ট্রদূত হোয়াইটলি জোর দিয়ে বলেন, “ইইউ বাংলাদেশকে অগ্রাধিকারমূলক দেশ বিবেচনা করছে, তবে পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠানো নির্ভর করবে প্রাক-মূল্যায়নের ফলাফলের ওপর।” তিনি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণাকে ইসি’র এখতিয়ার বলে উল্লেখ করলেও, “গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে” বলে যোগ করেন। ইইউ’র বাস্তবায়ন অংশীদার হিসেবে ইউরোপীয় পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসিও এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত রয়েছে।
বৈঠকে ইসি’র পক্ষ থেকে নির্বাচনী আইন সংস্কার, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। ইইউ প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশন, অন্তর্বর্তী সরকার ও সব রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরে। রাষ্ট্রদূত হোয়াইটলি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু অর্থ দেওয়া নয়, বরং বাংলাদেশকে এমন নির্বাচনী ব্যবস্থা গড়তে সাহায্য করা, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হবে।” আগামী সপ্তাহগুলোতে এই সহযোগিতার বিস্তারিত রূপরেখা চূড়ান্ত হবে বলে জানানো হয়।
আপনার মতামত লিখুন :