অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ বা রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করা হয়নি, বরং তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, যেকোনো সময় দলটির কার্যক্রম সচল করা হতে পারে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে জিটিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারছে না। তবে তারা বৈধ দল হিসেবেই আছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে নির্বাচন কমিশন।
ড. ইউনূস অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের সামনে নিজেদের উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, দলটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থেকেও কোনো দায় নেয়নি, বরং সব সময় অন্যকে দোষারোপ করেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, আওয়ামী লীগের সমর্থকরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন, শুধু তাদের দলীয় প্রতীক থাকবে না।
বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক নির্যাতনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ড. ইউনূস বলেন, দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর কোনো সহিংসতা নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি ভারতের ভুয়া খবরের সংস্কৃতির কথাও উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
নির্বাচন আয়োজনের সময়সীমা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের তিনটি প্রধান দায়িত্ব—সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হওয়ায় নির্বাচন আয়োজন করতে ১৮ মাস সময় লাগছে। কেউ এখনই নির্বাচন চাইলেও, আবার কেউ অন্তর্বর্তী সরকারকে আরও দীর্ঘ সময় দেখতে চান বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আপনার মতামত লিখুন :