জুলাই সনদ নিয়ে নিষ্পত্তির পর নির্বাচনী প্রস্তুতিতে এনসিপি


বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৫, ২০২৫, ১১:১২ পূর্বাহ্ন

জুলাই সনদে এখনো স্বাক্ষর না করলেও বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির শীর্ষ নেতাদের মতে, সনদের আইনি ভিত্তি স্পষ্ট হলে এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে এতে সই করবে। এরপরই তারা নির্বাচনী তৎপরতায় নামবে।

ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩১ অক্টোবর। তার আগেই সনদে স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন এনসিপি নেতারা। এরই মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে এনসিপির চার সদস্যের প্রতিনিধি দল। বৈঠকে ইউনূস এনসিপিকে জুলাই সনদে স্বাক্ষরের আহ্বান জানান। দলটির পক্ষ থেকে সনদের আইনি বৈধতা নিশ্চিত করার দাবি তোলা হয়। একই সঙ্গে এনসিপি প্রস্তাব দিয়েছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাষ্ট্রপতির পরিবর্তে প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমে বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ জারি করা হোক।

১৭ অক্টোবর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল না এনসিপি। তারা আগে থেকেই তিনটি শর্ত জানিয়েছিল—
১️. সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোটের খসড়া আগেই প্রকাশ করতে হবে।
২️. গণভোটে জনগণ যদি সনদ সমর্থন করে, তাহলে ভিন্নমতের (Note of Dissent) কোনো কার্যকারিতা থাকবে না।
৩️. নির্বাচিত সংসদ সংবিধান সংস্কারের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।

দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানিয়েছেন, “জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিয়ে সরকার ও কমিশনের সঙ্গে আমাদের অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে। বিষয়টি চূড়ান্ত হলেই এনসিপি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনী কার্যক্রমে নামবে।”

দলীয় সূত্র জানায়, আগামী মাসের শুরুতেই এনসিপি সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করতে পারে। তবে নির্বাচনী জোট বা আসন সমঝোতা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আরও সময় লাগবে। বিএনপি-জামায়াতের বাইরে তৃতীয় শক্তি গড়ে এককভাবে বা আংশিক জোটে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

আজ শনিবার সকাল ১০টায় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে এনসিপির একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে।

👉 সারসংক্ষেপে, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি স্পষ্ট হওয়ার পরই এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে সনদে সই করবে এবং পূর্ণমাত্রায় নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে নামবে।