গুম কমিশন গঠন হবে না, দায়িত্ব পালন করবে মানবাধিকার কমিশন


বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৩০, ২০২৫, ৯:৩৪ অপরাহ্ন

আলাদা করে গুম কমিশন গঠন করা হবে না, বরং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনই গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালন করবে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫’ এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

আইন উপদেষ্টা বলেন, আগের মানবাধিকার কমিশন ছিল ‘দন্তহীন প্রতিষ্ঠান’। সেখানে নিয়োগ ও এখতিয়ারের ঘাটতি ছিল, ফলে কার্যকরভাবে মানবাধিকার রক্ষা সম্ভব হয়নি। নতুন অধ্যাদেশে কমিশনকে আরও শক্তিশালী ও ক্ষমতাসম্পন্ন করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, মানবাধিকারের সংজ্ঞা সম্প্রসারিত করা হয়েছে—বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক অধিকার ছাড়াও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তি ও প্রথাগত আইনে স্বীকৃত অধিকারগুলোও এখন থেকে কমিশনের আওতায় থাকবে।

নতুন আইনে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন পূর্ণকালীন সদস্য নিয়ে কমিশন গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচনে আপিল বিভাগের একজন বিচারকের নেতৃত্বে সাত সদস্যের বাছাই কমিটি থাকবে।

এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাতেও তদন্তের এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে কমিশনকে, যা পূর্ববর্তী আইনে ছিল না।

গুম প্রতিরোধ বিষয়ক আইনের প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, “আমরা আলাদা করে গুম কমিশন করছি না। মানবাধিকার কমিশনই সেই দায়িত্ব পালন করবে।”

তিনি আরও জানান, হেফাজতে মৃত্যু সংক্রান্ত আইনসহ মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনেও কমিশনকে তদন্তের ক্ষমতা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং কমিশনের নির্দেশ বাধ্যতামূলকভাবে প্রতিপালনের বিধান সংযোজন করা হয়েছে।

👉 সারসংক্ষেপে বলা যায়, নতুন অধ্যাদেশে মানবাধিকার কমিশনকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি ক্ষমতাসম্পন্ন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে সরকার, যা গুমসহ সকল মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় তদন্ত ও পদক্ষেপ গ্রহণে প্রধান ভূমিকা পালন করবে।