প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা আজ (রোববার) সকাল থেকে বেতন-বৃদ্ধি ও পদোন্নতির দাবি আদায়ে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন। সরকারি হিসেবে সাড়ে ৬৫ হাজারেরও বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় প্রায় এক কোটি বারো লক্ষের কাছাকাছি (১ কোটি) শিক্ষার্থীর পাঠদান ব্যাহত হয়েছে।
শুক্রবার থেকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছিল শিক্ষকরা। ১০ম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবিতে ১৫ নভেম্বর থেকে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়ার কথা থাকলেও—শানিবার (৮ নভেম্বর) শাহবাগে ‘কলম সমর্পণ’ কার্যক্রমে পুলিশের হামলার প্রতিবাদে আন্দোলন আগেই তীব্র আকার নিয়েছে এবং কর্মবিরতি আজ থেকে কার্যকর করা হয়েছে।
দাবি–তিনদফা: (১) সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে নির্ধারণ, (২) ১০ ও ১৬ বছরের চাকরিতে উচ্চতর গ্রেড প্রদানে সমস্যার সমাধান এবং (৩) শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা। শিক্ষক নেতারা বলছেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমমানের পদে ডিগ্রি থাকলেও অন্য পেশাজীবীরা নীচু গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন—এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে দাবি সত্ত্বেও সন্তোষজনক বাস্তবায়ন হয়নি।
প্রশাসন-শিক্ষক সমন্বয়: আন্দোলনরত নেতা মো. শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, ঢাকায় শিক্ষকদের ওপর পুলিশের হামলা ও বুলেটপ্রত্যাঘাতে অনেক শিক্ষক আহত ও রক্তাক্ত—এ পরিস্থিতিতে তারা ক্ষুব্ধ ও ঐক্যবদ্ধ। সরকার দ্রুত যৌক্তিক সমাধান না দিলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে; প্রয়োজনে স্কুল তালাবন্দিসহ কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সরকার ও সংশ্লিষ্টদের কাছে শান্তিপূর্ণ সংলাপের আহ্বান জানিয়ে শিক্ষকরা তাদের যাতায়াত ও পাঠদান পুনরায় শুরু করার শর্ত রেখেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :