রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা–মেয়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার গৃহকর্মী আয়েশা প্রথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে—চুরি করতে গিয়ে বাধা দেওয়ায় সে হত্যাকাণ্ড ঘটায়। ঝালকাঠির নলছিটি এলাকায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় বুধবার তাকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, লায়লা আফরোজ ও তার মেয়ে নাফিসা বিনতে আজিজকে হত্যার পর আয়েশা বাসা থেকে দুটি ল্যাপটপ ও একটি মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়। একটি ল্যাপটপ সে বিক্রি করেছে, অন্যটি উদ্ধার হয়েছে। মোবাইল ফোনটি পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সে। আয়েশার স্বামী রাব্বিকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার আগের দিন বাসা থেকে কিছু জিনিসপত্র নিখোঁজ হয়। পরদিন সন্দেহ হওয়ায় গৃহকর্ত্রী তাকে তল্লাশির কথা বললে উত্তেজিত হয়ে আয়েশা ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। নাফিসা এগিয়ে এলে তাকেও আঘাত করে।
সোমবার সকালে মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের ওই বাসায় ৩০টির বেশি আঘাতে লায়লা এবং ৬টি আঘাতে নাফিসা নিহত হন। সিসিটিভিতে দেখা যায়, সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বোরকা পরে বাসায় প্রবেশ করেন আয়েশা এবং হত্যার পর স্কুলড্রেস পরে সকাল ৯টা ৩৫–এ বেরিয়ে যান।
ঘটনার পর নিহত লায়লার স্বামী আজিজুল ইসলাম গৃহকর্মী আয়েশাকে আসামি করে মামলা করেন। তিন দিনের অনুসন্ধান শেষে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, এবং হত্যার পেছনে আর কোনো কারণ আছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :