নির্বাচন নিয়ে প্রতিবেশীদের উপদেশ চাই না: ভারতকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫, ৮:১৯ অপরাহ্ন

বাংলাদেশে নির্বাচন কীভাবে হবে—এ বিষয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর উপদেশের প্রয়োজন নেই বলে স্পষ্ট করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তাঁর ভাষায়, অন্তর্বর্তী সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী এবং সে লক্ষ্যেই কাজ করছে।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে প্রহসনমূলক নির্বাচনের সময় ভারত কোনো আপত্তি তোলেনি। সেই প্রেক্ষাপটে এখন নির্বাচন নিয়ে দিল্লির ‘নসিহত’ অগ্রহণযোগ্য। “আমরা জানি কী করতে হবে,” বলেন তিনি, “মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে এবং যার প্রতি সমর্থন দেবে, তিনিই নির্বাচিত হন—এটাই আমাদের লক্ষ্য।”

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব এবং পরবর্তী সময়ে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব—এ ধরনের কূটনৈতিক পাল্টাপাল্টি অস্বাভাবিক নয়। তবে নির্বাচন নিয়ে প্রকাশ্য বক্তব্য ও পরামর্শকে তিনি অনুচিত বলে মনে করেন।

শেখ হাসিনার বিষয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তি প্রতিবেশী দেশে অবস্থান করে উসকানিমূলক বক্তব্য দিলে বাংলাদেশ তার প্রতিকার চাইবে—এটাই স্বাভাবিক।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থানের সঙ্গে ভারতের তুলনা টেনে তিনি বলেন, পশ্চিমা অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং তারা পর্যবেক্ষক পাঠাতে আগ্রহী। তবে প্রকাশ্য বিবৃতি দিয়ে নির্বাচনের শর্ত আরোপের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্যে স্পষ্ট—আসন্ন নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়, এবং এর মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বাংলাদেশই নেবে।