বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় জিয়া উদ্যানে তাঁর স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার পর দাফন সম্পন্ন হয়।
এর আগে একই দিন বিকেল ৩টার কিছু পরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লাখো মানুষ অংশ নেন।

দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে ভোগা খালেদা জিয়া মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। আর্থরাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার, ফুসফুস ও হৃদ্রোগসহ নানা শারীরিক জটিলতায় তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন।
গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে টানা চার দশকের বেশি সময় বিএনপির নেতৃত্ব দেন খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ১৯৮৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন তিনি। তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেত্রী এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকার জন্য ‘আপসহীন নেত্রী’ উপাধি লাভ করেন এবং বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়েন।
স্বামী জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর সংকটকালে রাজনীতিতে এসে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া খালেদা জিয়া ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে রাজনৈতিক শালীনতার উদাহরণ রেখে গেছেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের মধ্য দিয়ে এক বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটল এই প্রখ্যাত নেত্রীর।
আপনার মতামত লিখুন :