মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও চলতি সপ্তাহে তরল জ্বালানি ও গ্যাসবাহী ছয়টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় শিপিং এজেন্টরা জানিয়েছে, এসব চালান দেশের জ্বালানি সরবরাহে সাময়িক স্বস্তি আনতে পারে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগত জাহাজগুলোর মধ্যে দুটি জাহাজে মোট প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এসেছে। এছাড়া দুটি জাহাজে প্রায় ৪০ হাজার টন ফার্নেস অয়েল এবং একটি জাহাজে প্রায় ১৯ হাজার টন তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আনা হয়েছে।
আরেকটি জাহাজে প্রায় ১৪ হাজার টন তরল হাইড্রোকার্বন কনডেনসেট রয়েছে, যা ৫ মার্চ মালয়েশিয়া থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, কাতারের রাস লাফান টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশের জন্য তিনটি জাহাজে এলএনজি লোড করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি জাহাজ ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে এবং এগুলোতে মোট প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন এলএনজি রয়েছে।
স্থানীয় শিপিং এজেন্টদের তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় একটি এলএনজিবাহী জাহাজ এখনো হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেনি। পাশাপাশি ওমানের সোহর বন্দর থেকে প্রায় ২২ হাজার টন এলপিজি নিয়ে আরেকটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
এছাড়া সিঙ্গাপুর থেকে প্রায় ৩০ হাজার টন ডিজেলবাহী একটি জাহাজ আগামী ১২ মার্চের মধ্যে চট্টগ্রামে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের উল্লেখযোগ্য অংশ আমদানিনির্ভর। এর বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে দ্রুততম মূল্যবৃদ্ধির একটি উদাহরণ।
বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দেশের জ্বালানি বাজারে সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কা কিছুটা কমতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :