জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সোমবার রাজধানীর কাওরান বাজারের বিডিএল ভবনে অনুষ্ঠিত ‘ভয়েস অব রিফর্ম’ নাগরিক সংলাপে বলেছেন, ১৯৭৫ সালের গণ-অভ্যুত্থান ব্যক্তিগত ক্ষমতার পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্র কাঠামোর গভীর সংস্কারের লক্ষ্যেই সংঘটিত হয়েছিল।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সরকার যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুবিধা নিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার থেকে পিছিয়ে যায়, তবে জুলাইয়ের মতো আরেকটি অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি শুরু হতে পারে।” সংলাপে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “হাসিনা কোনও একক ব্যক্তি নয়, বরং ফ্যাসিবাদী নীতির সমষ্টি। যদি বিদ্যমান রাষ্ট্র ব্যবস্থা অক্ষুণ্ণ থাকে, যে কোনো ব্যক্তি ভবিষ্যতে ‘হাসিনা’ হয়ে উঠতে পারে। তাই রাষ্ট্র সংস্কার এখন সময়ের দাবি।”
মানবাধিকার কমিশনের অধ্যাদেশ কার্যকর না হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যদি এটি যথাযথভাবে কার্যকর না হয়, তদন্তের দায়ভার পুনরায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে চলে যাবে। জুলাই অভ্যুত্থানে পুলিশের ভূমিকা ও গুম হওয়া পরিবারের যন্ত্রণার কথা মনে রেখে, একটি ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থা জরুরি।”
সংলাপে মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী মানজুর-আল-মতিন জানান, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ দ্রুত গৃহীত হলেও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার আইন আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে আটকে আছে। তিনি সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
সংলাপে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন।
আপনার মতামত লিখুন :