অস্ত্র মামলায় ফয়সাল করিমের ১০ বছরের কারাদণ্ড


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৯, ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ন

রাজধানীর আদাবর থানায় দায়ের করা অস্ত্র আইনের মামলায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ, যিনি রাহুল ও দাউদ নামেও পরিচিত, তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার ১৮তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল মোহসীন এই রায় ঘোষণা করেন। আসামি পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় র‌্যাব। মাদক সংশ্লিষ্ট সন্দেহে পরিচালিত এই অভিযানে পালানোর সময় ফয়সালকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি, যার বৈধ কোনো কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি।

পরদিন র‌্যাব-২-এর পক্ষ থেকে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে তাকে চিহ্নিত সশস্ত্র অপরাধী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, সংগঠিত অপরাধ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিনি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতেন।

তদন্ত শেষে গত বছরের ২৮ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বিচার চলাকালে ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ফয়সাল গত বছরের ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত জামিনে ছিলেন; পরে তার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন শরীফ ওসমান বিন হাদি, এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ফয়সাল করিমের নাম উঠে আসে।

পরবর্তীতে গোয়েন্দা পুলিশ ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দিলেও তা নিয়ে আপত্তি ওঠে। আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি অপরাধ তদন্ত বিভাগকে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।