ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ শুরু, অবিশ্বাসের ছায়ায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১১, ২০২৬, ৩:৩৩ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল প্রত্যাশিত শান্তি সংলাপে অংশ নিতে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। তবে আলোচনার সূচনাতেই গভীর অবিশ্বাসের ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার বরাতে জানা গেছে, জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপচারিতায় আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অতীত অভিজ্ঞতার কারণে তেহরান ‘চরম অবিশ্বাস’ নিয়েই এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বে ওয়াশিংটন একাধিকবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে এবং কূটনৈতিক অঙ্গীকার রক্ষা করেনি। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান নিজেদের জাতীয় স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় আপস করবে না।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance। তার সঙ্গে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর উপদেষ্টা Jared Kushner-ও ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।

এই সংলাপ এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও আঞ্চলিক উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। মার্কিন সামরিক উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে এখনও সক্রিয় রয়েছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহ ও লজিস্টিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে, যা কৌশলগত প্রস্তুতিরই ইঙ্গিত বহন করে।

এদিকে, মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, ইরান তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহের চেষ্টা করছে, যেখানে চীনের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। যদিও বেইজিং আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদের এই সংলাপ কেবল একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও শক্তির ভারসাম্য নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। তবে পারস্পরিক অবিশ্বাস, আঞ্চলিক সংঘাত এবং বহুপাক্ষিক স্বার্থের জটিলতায় তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান পাওয়া কঠিন হতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।