ইসলামাবাদে বহুল প্রত্যাশিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ শুরুর প্রাক্কালে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সামনে এসেছে। ইরানের জব্দকৃত সম্পদের একটি অংশ মুক্ত করে দিতে সম্মত হয়েছে ওয়াশিংটন—যা আলোচনায় ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তকে তেহরান ‘সদিচ্ছার পরীক্ষা’ হিসেবে বিবেচনা করছে। তার মতে, এটি প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনাকে গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে এবং সমঝোতার পথে এগোতে আগ্রহী।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই পদক্ষেপের সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। অর্থাৎ, ইরান যদি আন্তর্জাতিক নৌপথে বাধা না দেয়, তবে তার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক অবরোধ শিথিল করতে পারে।

এর আগে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ না হলে এবং ইরানের জব্দ সম্পদ মুক্ত না করা হলে সংলাপ শুরু হবে না। তার এই অবস্থান আলোচনার প্রাক-শর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, জব্দকৃত সম্পদ মুক্তির এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের মধ্যে আস্থার ঘাটতি কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিভিন্ন দেশে আটকে রয়েছে, যা দেশটির অর্থনীতিতে বড় চাপ সৃষ্টি করেছে।
তবে পরিস্থিতি এখনও নাজুক। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে সামরিক বিকল্পও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি চাপ প্রয়োগের কৌশলও বজায় রেখেছে ওয়াশিংটন।
গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানকে কেন্দ্র করে যে সংঘাত শুরু হয়েছিল, তা প্রায় ৪০ দিন স্থায়ী হয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সেটি এখনও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদের সংলাপকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও আঞ্চলিক জটিলতার কারণে স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো সহজ হবে না বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
আপনার মতামত লিখুন :