সব আন্তঃনগর ট্রেনে বসছে স্টারলিংক ইন্টারনেট, বাস-ফেরিতেও চালুর পরিকল্পনা


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের গণপরিবহন খাতে ডিজিটাল সংযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথে এগোচ্ছে সরকার। প্রথমবারের মতো চলন্ত আন্তঃনগর ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে স্যাটেলাইটভিত্তিক উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক Starlink ব্যবহার করে এই পরীক্ষামূলক সেবা চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিনটি আন্তঃনগর ট্রেন—পর্যটক এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস এবং বনলতা এক্সপ্রেস—এ ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, যেখানে যাত্রীরা সরাসরি স্যাটেলাইট সংযোগের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ রেলওয়ে সহায়তা করছে, আর নীতিগত নির্দেশনা এসেছে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর পক্ষ থেকে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, পরীক্ষামূলক পর্যায়ে সেবাটি ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে এবং এটি যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চলন্ত ট্রেনে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ দীর্ঘদিনের একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। মোবাইল নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতার কারণে যাত্রাপথে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া, অনলাইন কাজ ব্যাহত হওয়া কিংবা যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটার মতো সমস্যাগুলো এই প্রযুক্তির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন শিক্ষা এবং দূরবর্তী অফিস কার্যক্রমে যুক্ত যাত্রীদের জন্য এটি বড় ধরনের সুবিধা সৃষ্টি করবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে দেশের অন্যান্য ব্যস্ত ও ননস্টপ আন্তঃনগর ট্রেনেও এই সেবা সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি, একই প্রযুক্তি বাস ও ফেরিতে চালুর বিষয়েও কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, একটি সমন্বিত সাবস্ক্রিপশন মডেলের মাধ্যমে ভবিষ্যতে যাত্রীরা একক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন গণপরিবহনে একইভাবে ইন্টারনেট সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। চলন্ত যানবাহনে স্যাটেলাইট রিসিভার ও নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই ব্যবসায়িক মডেল তৈরির বিষয়গুলো এখনো বিবেচনায় রয়েছে। তা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রকল্প সফল হলে এটি দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা কেবল একটি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়—বরং এটি ভবিষ্যতের স্মার্ট পরিবহন ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তোলার একটি বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ।