এক মাসে হাম ও উপসর্গে ১৯৮ শিশুর মৃত্যু, জনস্বাস্থ্যে বাড়ছে উদ্বেগ


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ন

দেশে সংক্রামক রোগ হাম-এর পুনরুত্থান জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য নতুন করে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মোট ১৯৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে—যা পরিস্থিতির গভীরতা ও ঝুঁকির মাত্রা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময়কালে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি, হামের লক্ষণ নিয়ে আরও ১৬৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত পরীক্ষায় রোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ১২ হাজার ৩৯৮ শিশু। এর মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৯৭৩ জন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিসংখ্যান কেবলমাত্র নিবন্ধিত ও রিপোর্টকৃত ঘটনার প্রতিফলন; বাস্তব সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজধানী-কেন্দ্রিক ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল হিসেবে উঠে এসেছে। এখানে এক মাসে ৯৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১০ হাজার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ, যেখানে আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ৫৫৬ শিশু এবং মৃত্যু হয়েছে ৬৭ জনের। অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে কম আক্রান্তের হার দেখা গেছে রংপুর বিভাগ-এ, যেখানে ৬৪৪ জন শিশু আক্রান্ত হলেও এই সময়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

গত ২৪ ঘণ্টার চিত্রও উদ্বেগজনক। এই সময়ে নতুন করে ৭৬ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের, যার মধ্যে একজনের ক্ষেত্রে হাম নিশ্চিত করা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে—বিশেষ করে যেসব শিশু টিকাবঞ্চিত বা অপুষ্টিতে ভুগছে তাদের মধ্যে। বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত করছে যে, টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, দ্রুত শনাক্তকরণ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং হাসপাতাল পর্যায়ে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের কৌশল আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এই সংক্রমণ আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে, যা দেশের শিশুস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করবে।