এই প্রথম হরমুজ পার হওয়া জাহাজ থেকে টোল নিল ইরান


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ন

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে প্রথমবার টোল বা রাজস্ব আদায়ের দাবি করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদরেজা হাজিবাবেই জানিয়েছেন, এ খাতে সংগৃহীত প্রথম অর্থ ইতোমধ্যে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা পড়েছে।

তেহরানের এই দাবি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট, যেখানে যেকোনো নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ সরাসরি বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করলেও কীভাবে এই টোল সংগ্রহ করা হয়েছে, কোন দেশের জাহাজ অর্থ পরিশোধ করেছে, কিংবা কত পরিমাণ ফি আদায় হয়েছে— সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি ঘিরে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক মহলে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

এর আগে ইরান ইঙ্গিত দিয়েছিল, “বন্ধুত্বপূর্ণ” দেশ ছাড়া অন্যদের জন্য হরমুজে চলাচলে বিধিনিষেধ এবং ফি আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে বাস্তবে টোল আদায়ের দাবি এই প্রথম প্রকাশ্যে এলো।

ইরানের আরেক সংসদ সদস্য আলিরেজা সালিমি জানিয়েছেন, জাহাজের ধরন, বহন করা পণ্যের পরিমাণ এবং নিরাপত্তাগত ঝুঁকি বিবেচনায় ফি নির্ধারণ করা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ নীতির কাঠামো ও পরিমাণ সম্পূর্ণ তেহরানের নিয়ন্ত্রণে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং কৌশলগত বার্তাও হতে পারে। বিশেষ করে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা, যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ইস্যুর মধ্যে এই পদক্ষেপকে অনেকেই চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে দেখছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে মার্চে জাহাজপ্রতি বড় অঙ্কের ফি নেওয়ার খবর প্রকাশিত হলেও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে তা অস্বীকার করেছিল। এবার সংসদীয় পর্যায় থেকে রাজস্ব জমা হওয়ার দাবি পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, যদি হরমুজে টোল আদায় নিয়মিত প্রক্রিয়ায় রূপ নেয়, তবে জ্বালানি পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে এবং বৈশ্বিক শিপিং রুটে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তেল ও গ্যাসনির্ভর অর্থনীতিগুলোর জন্য এর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এখন নজর আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার দিকে— এই দাবিকে বৈশ্বিক শক্তিগুলো কীভাবে গ্রহণ করে এবং সামুদ্রিক চলাচলের ওপর এর বাস্তব প্রভাব কতটা পড়ে, সেটিই হয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন।