রাজধানীর খুচরা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বিশেষ করে চাল, চিনি, ডিম ও পেঁয়াজের দাম গত এক সপ্তাহে বেড়েছে। একই সময়ে সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি এবং বেশ কিছু মৌসুমি সবজির দাম কিছুটা কমেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার প্রভাবকে এ দামের ওঠানামার প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাঝারি মানের চাল (বিআর-২৮ ও পায়জাম) কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা বেড়ে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোটা চাল (স্বর্ণা ও চায়না ইরি) ৫২ থেকে ৫৫ টাকা এবং সরু চাল (মিনিকেট) মানভেদে ৭০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, যদিও দেশে আমন মৌসুমের চাল মজুদ রয়েছে এবং বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে, তবুও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে খুচরা পর্যায়ে দামের ওপর চাপ পড়ছে।
চিনির বাজারেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। খোলা চিনি কেজিপ্রতি ৫ টাকা বেড়ে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর প্যাকেটজাত চিনি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১১০ টাকায়। পেঁয়াজের দামও কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায় উঠেছে।
ডিমের বাজারে অস্বাভাবিক চাপ লক্ষ্য করা গেছে। প্রতি ডজন ডিমের দাম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সপ্তাহখানেক আগে ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকা। কিছু এলাকায় খুচরা পর্যায়ে ডজনপ্রতি দাম আরও বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় এবং সোনালি মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় কম। সরবরাহ বাড়ায় এ দামের পতন ঘটেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
সবজির বাজারেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। মৌসুমি সবজির সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় অধিকাংশ সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। করলা, বেগুন, পটোল, ঢ্যাঁড়স ও বরবটির দাম তুলনামূলক কমেছে, যদিও চিচিঙা, কাকরোল ও সজনেডাটার দাম কিছুটা বেশি রয়েছে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে পণ্য পরিবহনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরকারিভাবে ভাড়া সামান্য সমন্বয় করা হলেও বাস্তবে পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়া কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, যা সরাসরি পণ্যের দামে প্রতিফলিত হচ্ছে।
একজন চাল বিক্রেতা জানান, সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। সবজি বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ বেশি থাকায় সবজির দাম কমেছে, যা ক্রেতাদের কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে।
বাজারের এই মিশ্র প্রবণতায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ। খাদ্যপণ্যের ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি তাদের দৈনন্দিন ব্যয় ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে প্রোটিন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায় পুষ্টি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
আপনার মতামত লিখুন :