ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi পাকিস্তানের রাজধানী Islamabad সফরে পৌঁছে দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী Ishaq Dar-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার অচলাবস্থা নিরসনে পাকিস্তানের কূটনৈতিক মধ্যস্থতার অংশ হিসেবেই এই সফরকে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে ছোট একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে ইসলামাবাদে পৌঁছান আরাগচি। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল Asim Munir, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Mohsin Naqvi। সফর ঘিরে রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকায় জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আগমনের পর আরাগচি ইসলামাবাদের Serena Hotel-এ অবস্থান নেন এবং সেখানেই পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা, চলমান যুদ্ধবিরতি এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
যদিও পাকিস্তান ও পশ্চিমা কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পরোক্ষ বা মধ্যস্থতাপূর্ণ আলোচনা হতে পারে, তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে—আরাগচির এই সফরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সরাসরি বৈঠক নির্ধারিত নেই। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সফরটি মূলত পাকিস্তানি নেতৃত্বের সঙ্গে পরামর্শ এবং আঞ্চলিক শান্তি প্রচেষ্টার অংশ।
এর আগে এপ্রিলের প্রথমার্ধে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হলেও তা স্থায়ী সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এরপর থেকেই দ্বিতীয় দফা সংলাপের সম্ভাবনা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ে। মার্কিন বিশেষ দূতদের পাকিস্তান সফরের প্রস্তুতির খবরও নিশ্চিত করেছে একাধিক আন্তর্জাতিক সূত্র।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর দুই দেশের সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের ভাষ্য, “ইসলামাবাদ সফর পাকিস্তানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের পরামর্শের জন্য; যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বৈঠক নির্ধারিত নেই।”
ইসলামাবাদে আরাগচির সফর তাৎক্ষণিক কোনো যুগান্তকারী সমঝোতার নিশ্চয়তা না দিলেও এটি স্পষ্ট করছে যে যুদ্ধবিরতির পরও কূটনৈতিক দরকষাকষি অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন-তেহরান সংলাপ নতুন গতি পাবে কি না, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক দিনের আলোচনার ফলাফলের ওপর।
আপনার মতামত লিখুন :