মেয়েদের জন্য স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষাব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নারীশিক্ষা বিস্তার এবং উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়াতে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সোমবার বিকেলে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে খালেদা জিয়া-এর সরকার মেয়েদের মাধ্যমিক এবং পরে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ চালু করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থা বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, শুধু অবৈতনিক শিক্ষা নয়, মেধাবী ছাত্রীদের জন্য সরকারি উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে, যাতে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কেউ উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়।
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য আর্থিক সম্মান ও সামাজিক সুরক্ষার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মসজিদের ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের জন্য ঘোষিত সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
কৃষিখাতে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের প্রতিশ্রুতি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং প্রায় ১২ লাখ কৃষক এ সুবিধার আওতায় আসবেন। পাশাপাশি কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
বেকারত্ব নিরসনে বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির নতুন বাজার খোঁজার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে, যা সেচ, মৎস্যচাষ, হাঁস পালন এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখবে।
ক্রীড়া উন্নয়ন নিয়েও ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশজুড়ে পেশাদার খেলোয়াড় তৈরির কর্মসূচি শুরু হবে এবং প্রাথমিকভাবে ৫০০ খেলোয়াড়কে সরকারি সম্মাননার আওতায় আনা হবে।
জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা, কৃষি, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো—এই চার খাতকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নারীশিক্ষায় বিনিয়োগ ভবিষ্যৎ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার অন্যতম ভিত্তি।
আপনার মতামত লিখুন :