মেগা প্রকল্পে ‘অস্বাভাবিক ব্যয়’, ঋণের বোঝা এখন জনগণের কাঁধে: প্রধানমন্ত্রী


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : মে ১১, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেল ও পদ্মা সেতুসহ দেশের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি ও অস্বাভাবিক ব্যয়ের অভিযোগ তুলে কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman। তিনি বলেছেন, অতীত সরকারের সময় নেওয়া এসব প্রকল্পের ঋণের বোঝা এখন দেশের ২০ কোটি মানুষের ওপর এসে পড়েছে।

সোমবার (১১ মে) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভায় মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চাপের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বিদেশি কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য একটি বালিশের দাম ধরা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা এবং ৩০-৩৫ হাজার টাকার ড্রেসিং টেবিল কেনা হয়েছে কয়েক লাখ টাকায়। প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, “পাশের দেশে একই ধরনের প্রকল্পে যেখানে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা, সেখানে রূপপুরে ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৬ হাজার কোটি টাকা।”

Rooppur Nuclear Power Plant প্রকল্পের পাশাপাশি Karnaphuli Tunnel নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তিনি। তার দাবি, টানেলের মুখে বৃক্ষরোপণের নামে ৫০ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে টানেলের অপর প্রান্তে অপ্রয়োজনীয় বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ করে শত শত কোটি টাকা অপচয়ের অভিযোগও করেন তিনি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পিরোজপুর জেলাতেই কাগজে-কলমে প্রকল্প দেখিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কয়েকটি বিভাগ মিলিয়ে একটি জেলায় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

Padma Bridge প্রকল্পের ব্যয় নিয়েও তুলনা টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যমুনা সেতু বা ভারতের ভূপেন হাজারিকা সেতুর মতো প্রকল্প যেখানে ১৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে বাস্তবায়ন সম্ভব, সেখানে পদ্মা সেতুতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫৪ থেকে ৫৬ হাজার কোটি টাকা।

তিনি বলেন, “অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত ব্যয় না হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে আরও কার্যকর বিনিয়োগ করা যেত। এখন সেই চার গুণ বেশি দামের ঋণের বোঝা জনগণের ঘাড়ে চাপছে।”

সভায় প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের আবাসন, পরিবহন ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সমস্যার সমাধানে সরকারের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করেন। তবে অতীতের অনিয়ম ও অর্থ অপচয়ের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার বাস্তবতা বিবেচনায় সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী Salahuddin Ahmed, স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক Ali Hossain Fakirসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।