ওমানে গাড়ির ভেতরে চার বাংলাদেশি ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার, রহস্য ঘিরে তদন্ত


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৪, ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ন

ওমানের আল বাতিনাহ অঞ্চলের মুলাদ্দা এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে চার বাংলাদেশি প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। নিহতরা সবাই চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বাসিন্দা।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির ভেতরে গ্যাস লিকেজ বা এয়ারকন্ডিশনিং (এসি) সিস্টেমে ত্রুটিজনিত বিষক্রিয়ার কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত শুরু করেছে ওমানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিহত চার ভাই হলেন— রাসেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। তারা রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভাইদের মধ্যে দুজনের দেশে ফেরার প্রস্তুতি চলছিল। পরিবারের এক সদস্যের বিয়ে উপলক্ষে কেনাকাটা করতে তারা একসঙ্গে বের হয়েছিলেন। পরদিন দেশে ফেরার কথা থাকলেও সেই আনন্দঘন মুহূর্ত শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় শোকাবহ ঘটনায়।

ওমানের স্থানীয় বাসিন্দারা বুধবার সকালে একটি গাড়ির ভেতরে চারজনকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের মৃত ঘোষণা করে এবং মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতদের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলামের দেশে ফিরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার কথা ছিল। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাদের দেশে ফেরাকে ঘিরে প্রস্তুতি ও আনন্দ চলছিল। হঠাৎ এমন মৃত্যুসংবাদে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক।

বাংলাদেশ দূতাবাসও চার বাংলাদেশির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দূতাবাস জানিয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে এবং মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

এদিকে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে এই ঘটনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরম আবহাওয়ায় দীর্ঘ সময় বন্ধ গাড়ির ভেতরে অবস্থান, ত্রুটিপূর্ণ এসি ব্যবস্থা বা বিষাক্ত গ্যাস জমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত ফরেনসিক তদন্ত ও সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।