ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু উত্তপ্ত ফোনালাপ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ২১, ২০২৬, ৩:৫৪ অপরাহ্ন

ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-এর মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে। সাম্প্রতিক ফোনালাপে দুই নেতার অবস্থানের পার্থক্য স্পষ্ট হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

মার্কিন ও ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে দুই দফা ফোনালাপে ইরান প্রশ্নে দুই নেতার কৌশলগত অবস্থান ভিন্ন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান স্থগিত করার সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু।

প্রথম ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয় রোববার। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। অভিযানের জন্য একটি বিশেষ নামও নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

ট্রাম্প জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের অনুরোধ এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।

তবে এই অবস্থানে সন্তুষ্ট ছিলেন না নেতানিয়াহু। দ্বিতীয় দফা ফোনালাপে তিনি ট্রাম্পকে জানান, সামরিক পদক্ষেপে বিলম্ব হলে ইরান আরও কৌশলগত সুবিধা অর্জনের সুযোগ পাবে। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কঠোর অবস্থান গ্রহণই ছিল সবচেয়ে কার্যকর পথ।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী ওই আলোচনায় নেতানিয়াহু সামরিক পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে জোরালো অবস্থান তুলে ধরেন। অন্যদিকে ট্রাম্প তখনও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিচ্ছিলেন।

ফোনালাপের পর আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও ইরান প্রশ্নে কৌশলগত ভিন্নতা এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

এদিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “ইরান ইস্যুতে আমি যে সিদ্ধান্ত নেব, নেতানিয়াহু সেটিই অনুসরণ করবেন।” তাঁর এই মন্তব্য ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সমালোচকদের একাংশের দাবি, ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়ে নেতানিয়াহু স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে পারছেন না। অন্যদিকে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি কাটেনি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমঝোতা নাকি সামরিক পদক্ষেপ— কোন পথে যুক্তরাষ্ট্র এগোবে, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।