রাজধানীর পল্লবীতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু রামিসা আক্তারকে দাফনের একদিন পর মেয়ের স্মৃতিতে ভেঙে পড়লেন বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা। বৃহস্পতিবার তিনি মিরপুরের Popular Model School–এ যান, যেখানে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত রামিসা।
স্কুলে গিয়ে মেয়ের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন তিনি। সেখানে রামিসার খালি বেঞ্চ, বই-খাতা আর সহপাঠীদের দেখে নিজেকে আর সামলাতে পারেননি। কান্নায় ভেঙে পড়েন শোকাহত বাবা। তার আহাজারিতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে ছোট্ট সহপাঠীরাও। অনেকেই রামিসার বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে।
গত মঙ্গলবার রাজধানীর পল্লবী এলাকায় হত্যার শিকার হয় আট বছরের শিশু রামিসা। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, হত্যার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বুধবার রাতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার পারিবারিক কবরস্থানে দাদা-দাদির কবরের পাশে রামিসাকে দাফন করা হয়। জানাজায় স্থানীয় মানুষ ও স্বজনদের উপস্থিতিতে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
মেয়েকে দাফনের পর ঢাকায় ফিরে বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলে যান আবদুল হান্নান। সেখানে তিনি কিছু সময় রামিসার বন্ধুদের সঙ্গে কাটান। সহপাঠীদের মুখে মেয়ের স্মৃতি শুনে আবারও কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
এর আগে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও বার্তায় বিচারব্যবস্থার প্রতি হতাশা প্রকাশ করেন রামিসার বাবা। তিনি বলেন, অপরাধীদের বিচার নিয়ে তার আস্থা নেই। অতীতের নানা ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ঘটনার পর পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতে নেওয়া হলে তিনি অপরাধের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এ ছাড়া ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় বাসার একটি কক্ষে স্বপ্নাকে আটকে রাখা হয়েছিল। পরে মরদেহ গুমের চেষ্টা চলাকালে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করে। তখন স্বপ্নাকে আটক করা সম্ভব হলেও অন্য একজন সহযোগী পালিয়ে যায়।
রামিসা হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে শিশুদের নিরাপত্তা, দ্রুত বিচার এবং অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপের দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
আপনার মতামত লিখুন :