জঙ্গল সলিমপুরে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : মে ৩১, ২০২৬, ৩:০৭ অপরাহ্ন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার আলোচিত জঙ্গল সলিমপুর ও এর আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় রাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতার জন্য আলোচিত এই এলাকা আর কোনোভাবেই অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে ব্যবহৃত হতে দেওয়া হবে না।

রোববার (৩১ মে) সকালে জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। পরিদর্শনকালে ভূমি ও পার্বত্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ, র‍্যাব ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের পাশাপাশি বেতুয়া ও চা-বাগানসহ আশপাশের পাহাড়ি এলাকায়ও অপরাধী চক্রের সক্রিয়তার তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে। ফলে শুধু একটি এলাকায় নয়, সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে পুরো অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হবে।

তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে এলাকায় অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত করেছে। তবে প্রকৃত ও বৈধ বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করা হবে না। বরং তাদের পুনর্বাসন ও নিরাপদ আবাসনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। জঙ্গল সলিমপুরকে কেন্দ্র করে সরকারের একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তর প্রকল্পের বিষয়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান তিনি।

দেশব্যাপী অপরাধ দমনের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। এসব অপরাধকে জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার।

অনলাইন ও প্রযুক্তিনির্ভর জুয়ার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিদ্যমান আইন আধুনিক জুয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য পর্যাপ্ত নয়। এ কারণে আগামী সংসদ অধিবেশনে নতুন আইন বা বিদ্যমান আইনের সংশোধনী আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মাদক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

কিশোর অপরাধ ও কিশোর গ্যাং প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান আইনের কিছু সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে অনেক কিশোর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইন সংস্কারের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি সাধারণ মানুষকে উচ্ছেদের ভয় দেখায়, চাঁদা দাবি করে বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানোর আহ্বান রইল। অপরাধীর পরিচয় বা প্রভাব যাই হোক না কেন, আইনের আওতায় আনা হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারের একটি অভিযানে র‍্যাবের এক কর্মকর্তা নিহত হন। পরবর্তী সময়ে যৌথ বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সম্প্রতি একটি যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাটি আবারও জাতীয় আলোচনায় আসে। সেই ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি ও অজ্ঞাতনামা শতাধিক সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।

জঙ্গল সলিমপুরে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু আইনশৃঙ্খলা অভিযান নয়, ভূমি ব্যবস্থাপনা, পুনর্বাসন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবে।