বিদ্যুতের দাম বাড়ল: গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ, পাইকারিতে ১৯.৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : জুন ৩, ২০২৬, ৩:৪৩ অপরাহ্ন

দেশজুড়ে বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চালন চার্জও প্রায় ২৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

বুধবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি নতুন মূল্যহার কার্যকরের ঘোষণা দেয়। এর আগে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয়, সরবরাহ পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রস্তাব পর্যালোচনা করে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

নতুন ঘোষণার ফলে বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল ভিন্ন হারে বৃদ্ধি পাবে। লাইফলাইন গ্রাহকদের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ১৫ শতাংশ এবং উচ্চ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। ফলে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতের বিদ্যুৎ ব্যয়ে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিইআরসির তথ্য অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য ৭ দশমিক ০৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৩৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সঞ্চালনের গড় খরচ প্রতি ইউনিটে ৩১ পয়সা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৩৯ পয়সায় উন্নীত হয়েছে।

বিদ্যুতের জাতীয় সঞ্চালন সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) সঞ্চালন চার্জ আরও বেশি হারে বৃদ্ধির আবেদন করেছিল। অন্যদিকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির যুক্তি দেখিয়ে পাইকারি মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়।

বিপিডিবির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। সংস্থাটির মতে, উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের প্রকৃত মূল্য প্রায় ১২ দশমিক ৯১ টাকা হতে পারে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ৫ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি করা হয়।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন ব্যয় ও আমদানি নির্ভর জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ খাতে মূল্য সমন্বয়ের চাপ অব্যাহত রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তারা দক্ষ ব্যবস্থাপনা, সিস্টেম লস কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যাতে দীর্ঘমেয়াদে ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমানো সম্ভব হয়।