সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে দেওয়া হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে এ বিষয়ে দায়ের করা আপিলগুলোর শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুন দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) জুবায়ের রহমান চৌধুরী-এর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপক্ষের পাশাপাশি বদিউল আলম মজুমদার এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম-এর করা আপিলও একসঙ্গে শুনানি হয়। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আপিলের সারসংক্ষেপ (সামারি) দাখিলের নির্দেশ দেন।
হাইকোর্টের রায়ে কী ছিল?
গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর সাত আইনজীবীর করা এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বর্তমান কাঠামোকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করে। একই সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হলে রাষ্ট্রপক্ষ ২১ মে আপিল দায়ের করে। একই সঙ্গে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রায়ের কার্যকারিতা স্থগিতের আবেদন জানানো হয়।
সচিবালয় গঠন ও বিলুপ্তির প্রেক্ষাপট
হাইকোর্টের রায়ের পর অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ৩০ নভেম্বর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে। পরে ১১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে। জাতীয় সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ পাস হওয়ার পর ১০ এপ্রিল সচিবালয় বিলুপ্ত হয়।
আইন অনুযায়ী, বিলুপ্ত সচিবালয়ের বাজেট, প্রকল্প ও প্রশাসনিক দায়িত্ব আইন ও বিচার বিভাগে হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি সচিবালয়ের জন্য সৃষ্ট পদগুলোও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় গত ১৯ মে বিলুপ্ত সচিবালয়ের ১৫ জন বিচারিক কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
পরবর্তী শুনানি ১৬ জুন
আপিল বিভাগের সর্বশেষ আদেশে হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা আপাতত স্থগিত থাকছে। আগামী ১৬ জুন নির্ধারিত শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক স্বাধীনতা, সচিবালয়ের প্রয়োজনীয়তা এবং সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিতর্ক হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
আপনার মতামত লিখুন :