মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটেছে এবং তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করবে না বলে সম্মত হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সিনেট প্রার্থী ব্যারি মুরের সমর্থনে আয়োজিত এক টেলি-র্যালিতে ট্রাম্প বলেন, “আমি জানি না আপনারা শুনেছেন কি না, তবে আমরা আজ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করেছি। তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র রাখবে না বলে সম্মত হয়েছে, আর এটাই ছিল আমাদের প্রধান শর্ত।”
একই অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, “আজ আমরা ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছি। আমরা একটি দারুণ চুক্তি করেছি। সেখানে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। খুব শিগগিরই মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করবে। প্রায় সবকিছুই সম্পন্ন হয়ে গেছে। আমরা যা চেয়েছিলাম, সবই পেয়েছি।”
উল্লেখ্য, এর কয়েক ঘণ্টা আগেও ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তবে পরে তিনি জানান, তেহরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় নির্ধারিত নতুন বিমান হামলা স্থগিত করা হয়েছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারকের খসড়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং চলতি সপ্তাহান্তেই ইউরোপে এটি স্বাক্ষরিত হতে পারে। তার দাবি, চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানকে স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধও তুলে নেওয়া হবে।
তবে ট্রাম্পের এই আশাবাদী বক্তব্যের বিপরীতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত দাবি উত্থাপনের অভিযোগ করেন এবং বলেন, “আলোচনার সময় ওয়াশিংটন নতুন নতুন শর্ত যুক্ত করছে।”
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের ভূমিকার প্রশংসা করেছে। ট্রাম্প জানান, মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সংঘাত প্রশমনের ইঙ্গিত পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে আসে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারও ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় লেনদেন শেষ করে।
সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি
আপনার মতামত লিখুন :